বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

গোবর ও পোলট্রির বিষ্ঠায় গ্যাস উৎপন্ন : নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়ন এখন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ 

আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
গোবর ও পোলট্রির বিষ্ঠায় গ্যাস উৎপন্ন : নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়ন এখন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ 

দেশ জুড়ে যখন জ্বালানী গ্যাসের দামে ভোক্তা সাধারণ নাজেহাল অবস্থায় রয়েছেন, ঠিক তখনই শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের গ্রামগুলো হয়ে উঠেছে যেন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’র এক অনন্য মডেল। গরুর গোবর থেকে উৎপন্ন হচ্ছে গ্যাস। গ্রামের বাড়িতে ১ থেকে কমপক্ষে ৫টি গরু থাকলেই মিটে যাচ্ছে পারিবারিকভাবে ব্যবহৃত গ্যাসের চাহিদা।

 

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের নন্নী ডেকরাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৪৫) তার ৬টি গরুর গোবর থেকে প্রতিদিন যে গ্যাস উৎপন্ন করেন, তা দিয়ে তাদের দুটি পরিবারের রান্নার চাহিদা মিটছে। ৬ মাস ধরে তারা এই গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে দুই পরিবারের মাসে আর্থিক খরচ কমেছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

 

উপজেলার নন্নী গ্রামের বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গরুর গোবরের গ্যাস ব্যবহার করলে কোনো ঝামেলা নেই, বরং আরও সংসারে টাকা আয় হচ্ছে। ব্যবহার অনুপযোগী গোবর জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সর্বোপরি এটা দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে অবদান রাখছে।

 

ওই গ্রামের বাসিন্দা নন্নী আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারী খোকন মিয়া তার ৩টি গরু থেকে গ্যাস উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি। তাই আগে খড়ির চুলায় রান্নায় অনেক ঝামেলা হতো, সময়ও বেশি লাগত। এখন সেই ঝামেলা নেই। গরু থেকে দুধও পাচ্ছি, গ্যাসও পাচ্ছি। অল্প সময়েই রান্না হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মাসে সিলিন্ডার গ্যাস ক্রয়ের কমপক্ষে ২ হাজার টাকা আর লাগে না। এটা সঞ্চয় থাকছে। এতে বছরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এই বায়োগ্যাস গ্রামাঞ্চলের জন্য খুব উপকারী ও বেশ উপযোগী।

 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নন্নী ইউনিয়নে একজন আরেকজনেরটা দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রায় ৫০টি পরিবার এখন বায়োগ্যাস ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পোলট্রির বিষ্ঠা দিয়েও গ্যাস উৎপাদন করছেন।

 

শেরপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস প্লান্টের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, বাড়িতে ৩টি গরু থাকলে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি গোবর পাওয়া যায়। প্রতি ২২ কেজি গোবর থেকে ১ কেজি গ্যাস উৎপাদন হয়। প্রতিদিন যা একটি পরিবারের চাহিদা অনায়াসে মিটিয়ে দেয়। তিনি জানান, বায়োগ্যাস ওই এলাকাটিতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

সুত্রে জানা যায়, সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ‘ইমপ্যাক্ট প্রকল্প ফেজ-৩’- এর মাধ্যমে শেরপুর জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ৮৫টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নে এই প্রকল্পের আওতায় ৩০টি প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নন্নী ইউনিয়নকে ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনাও আছে।

 

এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হারুনর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, এটি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানী গ্যাসের চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করছি।

ঝিনাইগাতীতে শাহীন ক্যাডেট স্কুলের ২য় সেমিস্টার পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ফজলুল করিম , স্টাফ রিপোর্টার , শেরপুর:
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১০ পিএম
গোবর ও পোলট্রির বিষ্ঠায় গ্যাস উৎপন্ন : নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়ন এখন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ 

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনানী বাজার শাখায় শাহীন ক্যাডেট স্কুলের ২য় সেমিস্টার পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ ৪ নভেম্বর (বুধবার) সকাল ৮টায় তিনানী বাজারের তাজ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শাহীন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনাব মুহাম্মদ মাছুদুল আমীন শাহীন।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামালপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান ও শাহীন স্কুল জামালপুর শাখার অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর।

সমাবেশে বক্তারা শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং পড়ালেখার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক যৌথ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা সভা শেষে ২য় সেমিস্টার পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এসময় শাহীন ক্যাডেট স্কুল তিনানী বাজার শাখার পরিচালক খাইরুল ইসলাম, মুজিবুল ইসলাম সহ শেরপুরের বিভিন্ন শাখার পরিচালক গণ সহ অনুষ্ঠানে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সান্তাহারে বিসমিল্লাহ হোটেলের খাবার খেয়ে অসুস্থ ৫, ইউএনওর কাছে অভিযোগ

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ 
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
গোবর ও পোলট্রির বিষ্ঠায় গ্যাস উৎপন্ন : নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়ন এখন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ 

বগুড়ার সান্তাহারে ‘বিসমিল্লাহ হোটেলে’ মুরগির চাপ ও গ্রিল খেয়ে পাঁচজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আবু সাইফ নিহাদ ও আবু হামজা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে খাবার খাওয়ার পরপরই পেটে ব্যথাসহ শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিলে তাঁদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সান্তাহার স্টেশন রোড এলাকায় ‘বিসমিল্লাহ হোটেলে’ ৬ জন মুরগির চাপ ও গ্রিল খায়। খাওয়া শেষে তাঁরা আরোও একজনের জন্য খাবার পার্সেল করে নিয়ে যায়। হোটেলে খাবার খাওয়ার পর থেকেই তাঁদের সবার পেটে ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের সাত জনকেই চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর অভিযোগকারী দুজন কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও বাকি পাঁচজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

হোটেলের খাবার খেয়ে এমন অসুস্থতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সান্তাহারে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করায় পাঁচ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ 
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
গোবর ও পোলট্রির বিষ্ঠায় গ্যাস উৎপন্ন : নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়ন এখন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ 

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে পাঁচ ব্যবসায়ীকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসাথে সিমলা আবাসিক হোটেল তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সান্তাহার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক জামাল উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় কয়েক বছর ধরে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এ বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

 

ফলে পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স খাত থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়৷ এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নবায়ন না করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে আকরাম হোসেনকে ২ হাজার টাকা, জাহাঙ্গীরকে ৫০০ টাকা, সাবরিনাকে ৫০০ টাকা, আহসান হাবীবকে ১ হাজার টাকা এবং আবু সাঈদকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া সিমলা আবাসিক হোটেল তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পৌরসভার রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত লাইসেন্স নবায়নের আহ্বান জানানো হয়।