বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে আবারও বাঘের দেখা ও চলাচলের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। লোকালয়ে বাঘ বিচরণের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো গ্রামজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে, বাঘটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং লোকজনকে নিরাপদে রাখতে মাঠে নেমেছে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি বাঘ সোনাতলা গ্রামের মডেল বাজার সংলগ্ন জাহাঙ্গীর মাতব্বরের বাড়ির পাশ দিয়ে একটি ধানক্ষেতে নেমে যায়। পরবর্তীতে রাতে পার্শ্ববর্তী লতিফ মেম্বারের বাড়ির সামনের ধানক্ষেতেও বাঘের পায়ের স্পষ্ট ছাপ দেখতে পান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা দ্রুত বন বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করেন।
সংবাদ পেয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল রোববার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালেও বন বিভাগের প্রতিনিধি দল, ভিটিআরটি এবং সিপিজি (কমিউনিটি টহল দল) সদস্যরা যৌথভাবে ধানক্ষেত ও আশপাশের বসতবাড়ি এলাকায় সতর্কতামূলক অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি চালান।
এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জানান, মাত্র তিন দিন আগে একই গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় ভোলা নদী সাঁতরে পার হয়ে একটি বাঘ লোকালয়ে চলে এসেছিল। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও একই এলাকায় বাঘ চলে আসায় সুন্দরবনপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ জানান, “বাঘের অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বন বিভাগ শুরু থেকেই মাঠে রয়েছে। লোকালয়ে চলে আসা বাঘটি যাতে মানুষ বা গৃহপালিত পশুর কোনো ক্ষতি না করে স্বাভাবিক নিয়মে গহীন বনে ফিরে যেতে পারে, আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রামজুড়ে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে।”
বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে সাবধানে চলাচল করা, বাঘের সন্ধান পেলে তার কাছাকাছি না যাওয়া এবং লোকালয়ে পুনরায় বাঘের দেখা মিললে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।