| ৩ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বাউল নিয়ে এনসিপির অবস্থানে ক্ষুব্ধ, পদ ছাড়লেন আরেক নেতা

বাউল নিয়ে এনসিপির অবস্থানে ক্ষুব্ধ, পদ ছাড়লেন আরেক নেতা

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তি ভোলা জেলার মুখ্য সংগঠক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনের নেতা সাইফুল্যাহ সানী। আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নিজ ফেসবুকে এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ছয় মাস ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও দলীয় কার্যক্রমের মধ্যে এমন কিছু কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে এসেছে, যা তার ব্যক্তিগত আদর্শ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে মুশরিক বাউল শিল্পীকে সমর্থন ও আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূল (সা.) এর শানে বেয়াদবিমূলক বক্তব্যকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

 

সাইফুল্যাহ সানী বলেন, ‘আমার কাছে আমার ইসলাম, আমার বিশ্বাস এবং আমার ধর্মীয় মূল্যবোধ সকল রাজনৈতিক আদর্শ ও পার্থিব অবস্থানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি কোনো রাজনৈতিক দল মেনে নেয় না, তেমনি একজন মুসলিমের কাছে মহান আল্লাহ ও তার রাসূলের (সা.) মর্যাদা সর্বোচ্চ এবং সেই মর্যাদায় আঘাত তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেন না।

 

ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ অবস্থান নিরসন সম্ভব নয় বলে জানিয়ে সাইফুল্যাহ সানী জাতীয় যুবশক্তির সকল কার্যক্রম থেকে অবিলম্বে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বিবৃতির শেষে তিনি নিজেকে ‘সাইফুল্যাহ সানী, সাবেক মুখ্য সংগঠক, জাতীয় যুবশক্তি ভোলা জেলা’ হিসেবে পরিচয় দেন।

 

এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নীতি ও রাজনৈতিক আদর্শবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচারসচিব ফাইয়াজ ইফতিকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপিকে বয়কটের আহ্বান জানান তিনি।

সান্তাহারে বিসমিল্লাহ হোটেলের খাবার খেয়ে অসুস্থ ৫, ইউএনওর কাছে অভিযোগ

বাউল নিয়ে এনসিপির অবস্থানে ক্ষুব্ধ, পদ ছাড়লেন আরেক নেতা

বগুড়ার সান্তাহারে ‘বিসমিল্লাহ হোটেলে’ মুরগির চাপ ও গ্রিল খেয়ে পাঁচজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ভুক্তভোগীদের পক্ষে আবু সাইফ নিহাদ ও আবু হামজা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এর আগে খাবার খাওয়ার পরপরই পেটে ব্যথাসহ শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিলে তাঁদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সান্তাহার স্টেশন রোড এলাকায় ‘বিসমিল্লাহ হোটেলে’ ৬ জন মুরগির চাপ ও গ্রিল খায়। খাওয়া শেষে তাঁরা আরোও একজনের জন্য খাবার পার্সেল করে নিয়ে যায়। হোটেলে খাবার খাওয়ার পর থেকেই তাঁদের সবার পেটে ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের সাত জনকেই চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর অভিযোগকারী দুজন কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও বাকি পাঁচজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

হোটেলের খাবার খেয়ে এমন অসুস্থতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সান্তাহারে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করায় পাঁচ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

বাউল নিয়ে এনসিপির অবস্থানে ক্ষুব্ধ, পদ ছাড়লেন আরেক নেতা

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে পাঁচ ব্যবসায়ীকে মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসাথে সিমলা আবাসিক হোটেল তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সান্তাহার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান তালুকদার, সহকারী লাইসেন্স পরিদর্শক জামাল উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা।

 

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় কয়েক বছর ধরে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন না করেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এ বিষয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে একাধিকবার ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নবায়নের জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান তা উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

 

ফলে পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স খাত থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়৷ এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স নবায়ন না করে ব্যবসা পরিচালনার দায়ে আকরাম হোসেনকে ২ হাজার টাকা, জাহাঙ্গীরকে ৫০০ টাকা, সাবরিনাকে ৫০০ টাকা, আহসান হাবীবকে ১ হাজার টাকা এবং আবু সাঈদকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া সিমলা আবাসিক হোটেল তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পৌরসভার রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত লাইসেন্স নবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

সান্তাহার থেকে গাবতলীর তিন এলএসডিতে গেল শুধু কাগজ, অর্ধকোটি টাকার সরকারি চাল ব্যবসায়ীর গুদামে

বাউল নিয়ে এনসিপির অবস্থানে ক্ষুব্ধ, পদ ছাড়লেন আরেক নেতা

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তিনটি এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুরাতন চাল কারবারি চক্র যোগসাজস করে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের শতাধিক টন সরকারি চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

জানা গেছে, বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের আভ্যন্তরীণ চলাচল সুচি নং ১৭, তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে ২০২৫/২০২৬ আমন এর আওতায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার এলএসডি থেকে জেলার গাবতলী উপজেলার তিনটি এলএসডিতে প্রায় সাড়ে ছয়শত মেট্টিক টন আমন চাল পাঠানোর জন্য আইআরটিসি (আভ্যন্তরীন চলাচল) সুচি গ্রহন করা হয়।

 

সুচি মোতাবেক সান্তাহার এলএসডি থেকে মোট ৬ শত সাড়ে ৪৩ মেট্টিক টনের মধ্যে গাবতলী সদর এলএসডিতে ১৯৮ মেট্টিক টন, একই উপজেলার সাবেকপাড়া এলএসডিতে ১৯৮ মেট্টিক টন, ও সুখানপুকুর এলএসডিতে ২শত সাড়ে ৪৭ মেট্টিক টনের সুচি ছিল। এই সুচির চাল প্রেরণ ও প্রাপ্তির শেষ তারিখ ২০ সেপ্টেম্বর সান্তাহার এলএসডি থেকে সাতটি ভি- ইনভয়েস মাধ্যমে একশত সাড়ে ১৫ মেট্টিক চালের কাগজপত্র তৈরি করা হয়।

 

এরপর কাগজে-কলমে চালগুলো প্রেরণ এবং প্রাপ্তি দেখিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয় গাবতলীর সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের চালের কারবারি মোস্তাক আহমেদের নিকট। পুর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ২০ সেপ্টেম্বর সান্তাহার এলএসডি খাদ্য গুদামে আসেন অবৈধ চালের কারবারি মোস্তাক আহমেদ। সান্তাহার এলএসডি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তার সহকারী কর্তৃক কাগজে কলমে একশত সাড়ে ১৫ মেট্টিক চাল ওই তিন এলএসডিতে প্রেরণ ও পরিবহন ঠিকাদার কর্তৃক গ্রহন করা দেখানো হয়। এরপর চাল না দিয়ে শুধু ভি-ইনভয়েস কাগজ দেওয়া হয় মোস্তাক আহেমেদর হাতে ।

 

তিনি কাগজগুলো নিয়ে গিয়ে জমা দেয় ওই তিন এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট। চালগুলো মোস্তাকের নিকট পুর্বেই বিক্রি করে দিয়ে রাখে ওই তিন এলএসডি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ফলে তারা সান্তাহার এলএসডি থেকে শুধু ওই পরিমান চাল গ্রহন করার কাগজপত্র তথা ভি- ইনভয়েস গ্রহন করেন। পক্ষান্তরে চালগুলো রয়ে যায় সান্তাহার এলএসডির ৯ নম্বর গুদামে। ঘটনার দুই দিন পর ২৩ সেপ্টেম্বর সান্তাহারের চালকল মালিক মতিউর রহমান স্বপন ঢাকা মেট্রো/ ট ১৪-৯৩২৮, ১৮-৪৯৩৯, ১৪-৫৮৯৪ ও ১৬-৫৫২৩ নম্বর ট্রাক দিয়ে সান্তাহার এলএসডির ৯ নম্বর গুদাম থেকে চালগুলো তার ব্যবসা কেন্দ্রে নিয়ে যায় বলে তথ্য মিলেছে।

 

এদিকে প্রেরণ ও প্রাপ্তি সময়ের শেষ দিন একশত সাড়ে ১৫ মেট্টিক টন চাল পাঠানোর জন্য তৈরি করা ভি- ইনভয়েসে নং ৪১৭২৭২৮ ও ৪১৭২৭৪০সহ সাতটি ভি- ইনভয়েজে যেসব ট্রাক নম্বর দেওয়া হয়েছে সেগুলো ভুয়া বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ঘটনার দিন ও সময়ে ঢাকা মোট্রো/১৪-৭৭৯৩সহ সাতটি ট্রাক সান্তাহার এলএসডিতে প্রবেশ করেনি। ট্রাক গুলো পুর্রের অন্য এক চলাচল সুচির সময় ব্যবহার করেছিলেন পরিবহন ঠিকাদার। এদিকে, এই একশত সাড়ে ১৫ মেট্টিক টন চাল সান্তাহারের চাল কারবারি স্বপনের কাছে সরবরাহ করার সময় সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মিয়া প্রতি কেজি আড়াই টাকা হিসাবে প্রায় তিন লাখ টাকা এবং সহকারী খাদ্য পরিদর্শক রাজু আহমেদ ট্রাক প্রতি দশ হাজার টাকা হিসাবে ৭০ হাজার ‘উপরি’ নিয়ে বেছে বেছে অপেক্ষাকৃত ভালো মানের তথা আমনের স্বর্ণা-৫ ও গুটি স্বর্ণা চাল সরবরাহ করেছেন বলেও প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।

 

এবিষয়ে গাবতলী উপজেলা সদর, উপজেলার সুখানপুকুর ও সাবেকপাড়া এলএসডি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যথাক্রমে আব্দুল আলিম, দেবায়ন বাগচি ও শাকিল হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগের তথ্য সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।

 

সুচির সব বুঝে নিয়েছি এবং খাদ্য বান্ধব ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন কর্মসুচিতে সরবরাহ করেছি। এদিকে সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী মিয়া সদ্য সমাপ্ত বোরো খাদ্য শস্য সংগ্রহ মৌসুমে মতিউর রহমান স্বপন নামে সান্তাহারের চালকল মালিক এর নিকট থেকে প্রতি কেজি আড়াই টাকা হিসাবে মোট সোয়া ৬ লাখ টাকা নিয়ে ২৫০ মেট্টিক টন আমন চাল বের করে দিয়ে বোরো চাল নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

এসময় এলএসডির উপপরির্দশক রাজু আহমেদ ২৫০ টন তথা ১৪ ট্রাক চাল বদল করে দেওয়া নেওযার জন্য স্বপনের নিকট থেকে ট্রাক প্রতি ৫ হাজার টাকা করে ‘উপরি’ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে সাক্ষাতে যোগাযোগ করা হলে সান্তাহার এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী মিয়া সাংবাদিকদের বলেন অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট, উক্ত অভিযোগের সাথে আমাদের কার্ক্রমের কোন মিল নাই বলেও দাবি করেন।

×