মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শরণখোলার সোনাতলা লোকালয়ে ফের বাঘের পায়ের ছাপ, গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক

জাকারিয়া হোসাইন, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ পিএম
শরণখোলার সোনাতলা লোকালয়ে ফের বাঘের পায়ের ছাপ, গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামে আবারও বাঘের দেখা ও চলাচলের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। লোকালয়ে বাঘ বিচরণের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো গ্রামজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে, বাঘটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং লোকজনকে নিরাপদে রাখতে মাঠে নেমেছে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী দল।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি বাঘ সোনাতলা গ্রামের মডেল বাজার সংলগ্ন জাহাঙ্গীর মাতব্বরের বাড়ির পাশ দিয়ে একটি ধানক্ষেতে নেমে যায়। পরবর্তীতে রাতে পার্শ্ববর্তী লতিফ মেম্বারের বাড়ির সামনের ধানক্ষেতেও বাঘের পায়ের স্পষ্ট ছাপ দেখতে পান স্থানীয় গ্রামবাসীরা। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিমের (ভিটিআরটি) সদস্যরা দ্রুত বন বিভাগকে বিষয়টি অবহিত করেন।

 

সংবাদ পেয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল রোববার রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালেও বন বিভাগের প্রতিনিধি দল, ভিটিআরটি এবং সিপিজি (কমিউনিটি টহল দল) সদস্যরা যৌথভাবে ধানক্ষেত ও আশপাশের বসতবাড়ি এলাকায় সতর্কতামূলক অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি চালান।

 

এলাকাবাসী ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে জানান, মাত্র তিন দিন আগে একই গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় ভোলা নদী সাঁতরে পার হয়ে একটি বাঘ লোকালয়ে চলে এসেছিল। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও একই এলাকায় বাঘ চলে আসায় সুন্দরবনপাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা শ্যামাপ্রসাদ জানান, “বাঘের অবস্থান ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বন বিভাগ শুরু থেকেই মাঠে রয়েছে। লোকালয়ে চলে আসা বাঘটি যাতে মানুষ বা গৃহপালিত পশুর কোনো ক্ষতি না করে স্বাভাবিক নিয়মে গহীন বনে ফিরে যেতে পারে, আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রামজুড়ে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে।”

 

বন বিভাগের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতে সাবধানে চলাচল করা, বাঘের সন্ধান পেলে তার কাছাকাছি না যাওয়া এবং লোকালয়ে পুনরায় বাঘের দেখা মিললে দ্রুত বন বিভাগকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আদমদীঘিতে ইউএনও-এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় ৪০টি পরিবার ফিরে পেল চলাচলের রাস্তা

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ 
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০১ পিএম
শরণখোলার সোনাতলা লোকালয়ে ফের বাঘের পায়ের ছাপ, গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক

বগুড়ার আদমদীঘিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘ ২৮ বছরের ব্যবহৃত চলাচলের পথ খুলে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে পথটি উন্মুক্ত করার ব্যবস্থা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ তৈরি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ওই পথ ব্যবহারকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি উপজেলার আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের তালশন মহল্লায় হাসপাতালের পূর্ব পাশের এলাকায়।

 

জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ভোরে আব্দুল হাকিমের ছেলেরা জিআই তারের বেড়া দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। রাস্তার জায়গায় ওই পরিবারের কয়েকটি গাছ থাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পরে সরকারি সার্ভেয়ার এমদাদুল হক জায়গাটি মাপজোখ করে রাস্তার স্থান নির্ধারণ করেন এবং গাছ অপসারণের নির্দেশ দেন। তবে গাছ কাটার জন্য সময় চাওয়ার পরও বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। একপর্যায়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

 

এ অবস্থায় ভোগান্তির শিকার বাসিন্দারা গত ২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সংসদ সদস্যও অভিযোগটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠান।এমন তথ্যের ভিত্তিতে পরে গত ১ ও ২ অক্টোবর বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে “আদমদীঘিতে কাঁটাতারের বেড়ায় ২৮ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ, ভোগান্তিতে পথচারী” একাধিক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখেন এবং আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর সোমবার সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রশাসনের উদ্যোগে অবরুদ্ধ পথটি খুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত পথ ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনসাধারণের চলাচলের দুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।

 

এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম বলেন, স্থানীয় ৪০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলজনিত দুর্ভোগ নিরসনে জনস্বার্থ বিবেচনায় পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া লিখিত অভিযোগও ছিলো। শীঘ্রই রাস্তার একটা পরিপূর্ণ মাপজোখ সম্পন্ন করে পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করতে সংস্কারকাজ করা হবে।

গলাচিপায় লক্ষ্মীপূজায় আতশবাজির বিস্ফোরণে কিশোরের পাঁচ আঙুল বিচ্ছিন্ন

সঞ্জিব দাস, পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
শরণখোলার সোনাতলা লোকালয়ে ফের বাঘের পায়ের ছাপ, গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক

পটুয়াখালীর গলাচিপায় লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে বিস্ফোরণে অমিত হাজারি (১৮) নামে এক কিশোরের হাতের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে তাঁর হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতের হাতটি রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক।

 

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত অমিত ওই গ্রামের অর্জুন হাজারির ছেলে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আনন্দ-উল্লাসের একপর্যায়ে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন অমিত। পরে স্থানীয়রা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) পাঠানো হয়।

 

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আহত অমিতের হাতে ডিগ্লোভিং ইনজুরি (ত্বক ও নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে উঠে যাওয়া) হয়েছে। বোমা বিস্ফোরণে তাঁর হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাতটি রক্ষা করা যাবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।”

 

এ বিষয়ে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আনন্দ-উল্লাস করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

বগুড়ায় ৪৫ দিনের নবজাতককে কোলে নিয়ে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ 
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৪ এএম
শরণখোলার সোনাতলা লোকালয়ে ফের বাঘের পায়ের ছাপ, গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক

বগুড়ার শাজাহানপুরে ৪৫ দিনের নবজাতককে কোলে নিয়ে অভিনব কৌশলে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে স্বামী ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, দুটি মোবাইল ফোন ও ইয়াবা লুকানোর কাজে ব্যবহৃত দুটি অ্যাংলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

রোববার (২৫ অক্টোবর) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল জামালপুর এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে এ অভিযান চালানো হয়।

 

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোছা. সারমিন খানম (২৫) ও তাঁর স্বামী সোহাগ মৃধা (৩১)। তাঁদের স্থায়ী বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। তাঁরা বর্তমানে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাস করতেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলায় তাঁদের অভিযুক্ত থাকার তথ্যও জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা।

 

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়া জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহা. জিললুর রহমানের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে বগুড়াগামী আর কে ট্রাভেলসের একটি যাত্রীবাহী কোচে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১২৯৫ নম্বরের নিবন্ধন রয়েছে। কোচের এফ-১ ও এফ-২ আসনে বসা দুই যাত্রীর টিকিট ছিল না বলে জানায় অধিদপ্তর।

 

 

অভিযানকালে সারমিনের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে অ্যাংলেটের সঙ্গে কালো স্কচটেপ দিয়ে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা লুকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ ৭ হাজার ৮০০ পিস বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ছাড়া মাদক ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগে একটি ভিভো ও একটি অপো ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন এবং দুটি সাদা রঙের অ্যাংলেট জব্দ করা হয়।

 

 

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. সামসুল আলম বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করেছেন।

 

 

অধিদপ্তর জানায়, মাদকের এই চালানের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।