শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

শেরপুরে ‘নিজের বলার মতো গল্প’র মিটআপ অনুষ্ঠিত

রোমেল খান, বিশেষ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৩ পিএম
শেরপুরে ‘নিজের বলার মতো গল্প’র মিটআপ অনুষ্ঠিত

‘স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন, শুরু করুন এবং লেগে থাকুন—সাফল্য আসবেই’ স্লোগানকে সামনে রেখে শেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নিজের বলার মতো একটি গল্প’ ফাউন্ডেশনের জেলা পর্যায়ের অফলাইন মিটআপ।

 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় শহরের ডিসি লেকে এ মিটআপের আয়োজন করে ফাউন্ডেশনের শেরপুর জেলা টিম। এতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নবীন, প্রবীণ ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

 

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ফাউন্ডেশনের কমিউনিটি ভলান্টিয়ার মো. জাহিদ হাসান। উপস্থিত ছিলেন শেরপুর জেলা অ্যাম্বাসেডর মো. সাদিক মিয়া।

 

মিটআপে শেরপুরের উদ্যোক্তাদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলার উদ্যোক্তাদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করে শেরপুরকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুর গল্প, পথচলার অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ ও সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

 

আয়োজনের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা করা হয়। নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর নারী ও পুরুষদের অংশগ্রহণে বালিশ খেলা এবং চোখ বেঁধে হাঁড়িভাঙা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

 

এ সময় ফাউন্ডেশনের সদস্য রোমেল খান, মিজানুর রহমান মিলন, রুবিনা আক্তার, রুমানা ইসলাম, সামিনা খাতুন, সুজিনা রেজা, নিবিড় চক্রবর্তী, সুলতানা রাজিয়া, শিহাব আহমেদ, তানভীর আহমেদ, হাবিবুর রহমান, শাহরিয়ার শুয়াইব, আশিকুর রহমান, সালমা শেরপুর, আমেনা খাতুন, আল আমিন, তাহমিনা আক্তার, সাজু আহমেদ, মো. উজ্জ্বল ইসলাম, খোকন আহমেদ, সোহানা আক্তার, সাফফাত ইসলাম, কামরুজ্জামান, জীবন নাহার, আশাদুল্লাহ রোহানী ও জান্নাতুল আক্তারসহ ফাউন্ডেশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

পরিচিতি, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে মিটআপটি শেষ হয়।

নওগাঁয় সিজারের পর যমজ নবজাতকের একজনের খোঁজ নেই, থানায় অভিযোগ

মেরাজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
শেরপুরে ‘নিজের বলার মতো গল্প’র মিটআপ অনুষ্ঠিত

নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর যমজ নবজাতকের একজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অপর নবজাতকের কী হয়েছে, তা জানতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাবা শান্ত ইসলাম। এ ঘটনায় নওগাঁর বলাকা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে।

 

শান্ত ইসলামের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দুটি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় পরীক্ষার প্রতিবেদনেই গর্ভে যমজ জীবিত ভ্রূণ থাকার কথা উল্লেখ ছিল।

 

১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা বলা হয়। সেখানে উভয়ের হৃদ্‌স্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃদ্‌স্পন্দন যথাক্রমে ১৪৬ ও ১৪০ বার প্রতি মিনিটে পাওয়া যায়। সম্ভাব্য ওজন উল্লেখ করা হয় ২ হাজার ৩৩১ ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম।

 

শান্ত ইসলাম জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তাঁর স্ত্রীকে নওগাঁর বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন তাঁর স্ত্রী। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের কাছে একটি নবজাতক হস্তান্তর করা হলেও অপর সন্তানটির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

শান্ত ইসলামের অভিযোগ, অপর নবজাতকের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাঁকে আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অপর নবজাতকের সন্ধান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

শান্ত ইসলামের স্ত্রী শান্তনা আক্তার বলেন, ‘যমজ সন্তানের বিষয়ে ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ডা. মাহফুজা খাতুনের কাছে যাই। তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত সিজার করার পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি হই। সিজারের আগেও জানতাম, আমার দুটি সন্তান—একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। কিন্তু সিজারের পর আমাকে একটি মেয়ে দেখানো হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তাঁরা প্রতিবাদ করেন। তখন আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয়। এ সময় মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও করা হয়। বলা হয়, তাঁদের কথা না মানলে আমাকে এ অবস্থায় রেখেই দেওয়া হবে। পরে আমার কাঁপুনি শুরু হলে তাঁদের বলি, আপনাদের সব কথা শুনব, আগে পেটের সেলাইটা করেন। এরপর চিকিৎসক আমার সঙ্গে রাগারাগি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে পেটের কাটা অংশ সেলাই করা হয়। আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। আমার সন্তানকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চাই।’

 

বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘ডা. মাহফুজা খাতুনের রোগী হিসেবে তাঁর পরামর্শেই ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনিই নিজে অস্ত্রোপচার করেছেন। সন্তান একটি নাকি দুটি হয়েছে, তা ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

 

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নবজাতকের বাবা নিজে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দেননি।

আদমদীঘিতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ সিজন-২ উদ্বোধন

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধিঃ 
প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১৯ পিএম
শেরপুরে ‘নিজের বলার মতো গল্প’র মিটআপ অনুষ্ঠিত

সারাদেশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ে একযোগে শুরু হয়েছে “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬” সিজন-২ কর্মসূচি। এর ধারাবাহিকতায় বগুড়ার আদমদীঘিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সারা দেশে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার।

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ জামিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা, মধু, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও আনোয়ার হোসেন হিটলু, সদর ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জুয়েল রানা, কুরবান, উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বাপ্পী, সান্তাহার পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মাসুদ রানা, সান্তাহার পৌর মহিলা দলের সভাপতি মুক্তা, ছাত্রদল নেতা হাসিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতারা।

 

 

এরআগে উপজেলা পর্যায়ে গত ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধনের মাধ্যমে ১০টি ক্রীড়া ইভেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে প্রতিযোগীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে যোগ্য খেলোয়াড় নির্বাচন করা হয়। এরপর উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত খেলোয়াড়েরা পরবর্তী সময়ে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও পরবর্তী ধাপের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

গোবর ও পোলট্রির বিষ্ঠায় গ্যাস উৎপন্ন : নালিতাবাড়ীর নন্নী ইউনিয়ন এখন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ 

আমিরুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
শেরপুরে ‘নিজের বলার মতো গল্প’র মিটআপ অনুষ্ঠিত

দেশ জুড়ে যখন জ্বালানী গ্যাসের দামে ভোক্তা সাধারণ নাজেহাল অবস্থায় রয়েছেন, ঠিক তখনই শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের গ্রামগুলো হয়ে উঠেছে যেন ‘বায়োগ্যাস পল্লী’র এক অনন্য মডেল। গরুর গোবর থেকে উৎপন্ন হচ্ছে গ্যাস। গ্রামের বাড়িতে ১ থেকে কমপক্ষে ৫টি গরু থাকলেই মিটে যাচ্ছে পারিবারিকভাবে ব্যবহৃত গ্যাসের চাহিদা।

 

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের নন্নী ডেকরাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৪৫) তার ৬টি গরুর গোবর থেকে প্রতিদিন যে গ্যাস উৎপন্ন করেন, তা দিয়ে তাদের দুটি পরিবারের রান্নার চাহিদা মিটছে। ৬ মাস ধরে তারা এই গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে দুই পরিবারের মাসে আর্থিক খরচ কমেছে প্রায় ৪ হাজার টাকা।

 

উপজেলার নন্নী গ্রামের বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গরুর গোবরের গ্যাস ব্যবহার করলে কোনো ঝামেলা নেই, বরং আরও সংসারে টাকা আয় হচ্ছে। ব্যবহার অনুপযোগী গোবর জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সর্বোপরি এটা দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে অবদান রাখছে।

 

ওই গ্রামের বাসিন্দা নন্নী আলিম মাদ্রাসার অফিস সহকারী খোকন মিয়া তার ৩টি গরু থেকে গ্যাস উৎপাদন করছেন। তিনি বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি। তাই আগে খড়ির চুলায় রান্নায় অনেক ঝামেলা হতো, সময়ও বেশি লাগত। এখন সেই ঝামেলা নেই। গরু থেকে দুধও পাচ্ছি, গ্যাসও পাচ্ছি। অল্প সময়েই রান্না হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মাসে সিলিন্ডার গ্যাস ক্রয়ের কমপক্ষে ২ হাজার টাকা আর লাগে না। এটা সঞ্চয় থাকছে। এতে বছরে প্রায় ২৫ হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। এই বায়োগ্যাস গ্রামাঞ্চলের জন্য খুব উপকারী ও বেশ উপযোগী।

 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নন্নী ইউনিয়নে একজন আরেকজনেরটা দেখে উৎসাহিত হয়ে প্রায় ৫০টি পরিবার এখন বায়োগ্যাস ব্যবহার করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ পোলট্রির বিষ্ঠা দিয়েও গ্যাস উৎপাদন করছেন।

 

শেরপুর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বায়োগ্যাস প্লান্টের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, বাড়িতে ৩টি গরু থাকলে প্রতিদিন ৪০-৫০ কেজি গোবর পাওয়া যায়। প্রতি ২২ কেজি গোবর থেকে ১ কেজি গ্যাস উৎপাদন হয়। প্রতিদিন যা একটি পরিবারের চাহিদা অনায়াসে মিটিয়ে দেয়। তিনি জানান, বায়োগ্যাস ওই এলাকাটিতে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 

সুত্রে জানা যায়, সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ‘ইমপ্যাক্ট প্রকল্প ফেজ-৩’- এর মাধ্যমে শেরপুর জেলার ৫টি উপজেলায় মোট ৮৫টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নে এই প্রকল্পের আওতায় ৩০টি প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নন্নী ইউনিয়নকে ‘বায়োগ্যাস পল্লী’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনাও আছে।

 

এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হারুনর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, এটি বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি অংশ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানী গ্যাসের চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করছি।