হিংসার ক্ষতি। মুফতী নূরুল ইসলাম নাযীফ
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো! কারণ হিংসা নেক আমলসমূহকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন জ্বালানি বা তৃণভোজ্যকে পুড়িয়ে ফেলে।” (সুনান আবু দাউদ, হাদীস: ৪৯০৩)
আল্লাহ্র নির্দেশাবলী ও নবুয়তী শিক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধি বা নফসের সংশোধন। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যে কোনো কাজ করার আদেশ দিলে অথবা নিষেধ করলেই, তার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের চারিত্রিক উৎকর্ষতা এবং খারাপ স্বভাব থেকে তাকে রক্ষা করা।
উপরোক্ত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিংসা করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। হিংসা হলো— কারও প্রতি এই মন্দ ধারণা রাখা ও কামনা করা যে, তার যে কোনো প্রকার নিয়ামত (যেমন: জ্ঞান, আমল, সম্পদ, স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য, সন্তান, ইত্যাদি) সে যেন তা হারিয়ে ফেলে, এবং তা যেন নিজে পায়। এটাই হিংসা।
এই ধরনের নেতিবাচক মনোভাব ও হিংসা করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কেউ যদি অন্যের কোনো নিয়ামত দেখে মনে মনে এই কামনা করে যে, “আল্লাহ তাকেও এই নিয়ামতের বরকত দিন এবং আমাকেও এই নিয়ামত দিন”— তবে তা হিংসা নয়, বরং তা ‘গিবতাহ’ বা নেক রূচি।
মানুষের উচিত, সে যেন অন্যের প্রাপ্ত নিয়ামতে খুশি হয় এবং তার জন্য দোয়া করে—“আল্লাহ তার নিয়ামত আরও বৃদ্ধি করুন ও স্থায়ী করুন এবং আমাকে তদ্রূপ নিয়ামত দিন।”
কিন্তু যখন সে অন্যের নিয়ামত দেখে মনোকষ্ট পায়, তার কাছ থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে এবং নিজের জন্য তা পাওয়ার স্বপ্ন দেখে— তখন মনের সেই অনুভূতি এক ধ্বংসাত্মক নেতিবাচক আবেগে রূপ নেয়, যা ইসলাম গ্রহণযোগ্য মনে করে না।
হিংসা মূলত মানুষের পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহযোগিতার চেতনার পরিপন্থী। সমাজ গড়ে ওঠে পারস্পরিক কল্যাণ ও সদ্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে। যখন কেউ তার সৎ আমলের জন্য কোনো নিয়ামত পায়, তখন হিংসুক ব্যক্তি আসলে সমাজের সেই যৌথ সাফল্যের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করে বসে। সে যেন আল্লাহর বিধানেই আপত্তি তোলে যে, “এই নিয়ামত তাকে কেন দেওয়া হলো, আমাকে কেন নয়?”
এই চিন্তাধারা তাকে এমন এক পথের দিকে ধাবিত করে, যা সমাজে ফিতনা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সে হয়ে পড়ে ভোগবাদী ও দুনিয়ার মোহে আসক্ত। এই মোহ তাকে আল্লাহর বিধানের বাইরে গিয়ে অসৎ পথে সম্পদ অর্জনের দিকে ঠেলে দেয়— যেমন: লুটপাট, জুলুম, প্রতারণা, বা অন্যের অধিকার হরণ।
এইসব কাজ তার ব্যক্তিত্বে ও সমাজে এক নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি করে, যার ফলাফল হয়: আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং মানুষকে জুলুম-অন্যায় করার দিকে ধাবিত হওয়া।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হিংসা থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন।
লেখক:- মুফতী নূরুল ইসলাম নাযীফ
মুহাদ্দিস: জামিয়াতুশ শায়খ আহমদ শফী রহ.,
মাটিয়াকুড়া, শ্রীবরদী, শেরপুর।

| ২ নভেম্বর ২০২৬

















