| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

শেরপুরে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

শেরপুরে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

শেরপুর জেলার সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ মরিয়ম আক্তার মৌসুমী গংদের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ সম্মেলন করার অভিযোগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সোহাগ মিয়া।০৫ এপ্রিল রোববার দুপুরে মির্জাপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোঃ সোহাগ মিয়া জানান, তিনি জন্মের পর থেকে পরিবারসহ ওই গ্রামে বসবাস করে আসছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার একটি নির্দিষ্ট জমির বৈধ মালিকানা ও ভোগদখলে রয়েছেন।

 

এসময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের সম্মুখে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বলেন, ১৯৬৯ সালে তার পিতা মরহুম মকবুল হোসেন প্রতিবেশী মরহুম রজব আলীর কাছ থেকে প্রায় পৌনে চার শতাংশ জমি ক্রয় করেন এবং ২০০৩ সাল পর্যন্ত উক্ত জমির দখল তাদের কাছেই ছিল।

 

কিন্তু ২০০৩ সালে ভুল রেকর্ডের ভিত্তিতে তার জ্যেঠাতো ভাইয়েরা ছয় শতাংশ জমি মৃত মফিজুল হক মাস্টারের কাছে বিক্রি করেন, যা তাদের বাড়ি ভিটার অংশ বলে দাবি করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০০৪ সালে প্রতিপক্ষ মরিয়ম আক্তার মৌসুমী গংরা পেশিশক্তি ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ক্রয়কৃত জমির সংলগ্ন তার পিতার জমির উপর জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হয় বলেও এমনটাই অভিযোগ করেন। যদিও এক পর্যায়ে মামলার রায় তাদের পক্ষে আসে, তবুও এখনো তারা ওই জমির ভোগদখল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।

 

সম্প্রতি প্রতিপক্ষ মরিয়ম আক্তার মৌসুমী, লাবনী, লাইজুসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ করেন সোহাগ মিয়া। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের সামাজিক মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।

 

এমতাবস্থায় তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু সমাধানের আহ্বান জানান এবং তার ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। এছাড়াও তিনি শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসময় সংবাদ সম্মেলনে শেরপুর জেলা শহরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

শেরপুরে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৪ নং সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১ নভেম্বর (রবিবার) সকাল ১০টায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

 

WMC কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে আলোচনা পরিচালনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস ও আবুল আসলাম তুহিন।

 

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বিপুল সংখ্যক মৎস্যচাষি অংশ নেন। প্রশিক্ষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্যচাষের বিভিন্ন ব্যবহারিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকার মৎস্য খাত ঝুঁকিতে পড়ছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় চাষিদের আধুনিক কৌশলে অভ্যস্ত করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

 

‘ওয়েটল্যান্ড ফর রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডরপ’ (DORP)-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন সংস্থাটির প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল মোতালেব ও মোঃ কবির হোসেন।

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শরণখোলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

শেরপুরে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ ও যুব সংগঠনের অনুদানের চেক বিতরণ এবং গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি যুব র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

র‍্যালি শেষে উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজোয়ান ইফতেকারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শিশির কুমার দাস।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির এবং শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেন সুজন।

 

আলোচনা সভা শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যুব সংগঠনের মাঝে অনুদানের চেক এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে গাছের চারা রোপণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আকলিমা বেগমকে দিলেন ৬০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নির্মিত হলো বসতঘর

শেরপুরে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

মানবিকতার টানে হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী মো. আনোয়ার হোসেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অসহায় বিধবা আকলিমা বেগমের দুর্দশার কথা জানতে পেরে বসতঘর নির্মাণের জন্য তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা।

 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের উদ্যোগে আকলিমা বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে নতুন বসতঘর। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন অসহায় এই নারী।

 

মো. আনোয়ার হোসেন ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও নিজের শেকড় ও এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর টান অটুট রয়েছে। প্রবাসে থেকেও এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় এগিয়ে এসেছেন তিনি।

 

অসহায় আকলিমা বেগমের বাড়ি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে। জীবনের শেষ বয়সে এসে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাঁর। পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষ বলতে কার্যত কেউ নেই। দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। মায়ের খোঁজখবরও তেমন নেন না। একমাত্র মেয়েটিও বিধবা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের সামান্য উপার্জনেই কোনোরকমে চলে মা-মেয়ের সংসার।

 

পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যায়ও জর্জরিত আকলিমা বেগম। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় ওষুধের দোকানে জমেছে বকেয়া। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে বাকিতে ওষুধ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

 

শুধু চিকিৎসার সংকটই নয়, বসবাসের ঘরটিও ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। ভেঙে গিয়েছিল বেড়া, চালের টিন ও ঘরের খুঁটি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মা-মেয়ের বসবাস ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যেই কাটছিল তাঁদের জীবন।

 

সম্প্রতি আকলিমা বেগমের অসহায়ত্ব ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমেরিকা প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে। পরে তিনি তাঁর ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী সোহাগের মাধ্যমে আকলিমা বেগমের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বসতঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেন ৬০ হাজার টাকা।

 

এদিকে, আকলিমা বেগমের দুরবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের মানবিক উদ্যোগে অসহায় এই পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয় একটি নতুন বসতঘর। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুযোগ পেয়েছেন আকলিমা বেগম ও তাঁর মেয়ে।

 

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বসতঘর নির্মিত হওয়ায় প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের দেওয়া ৬০ হাজার টাকা এখন ঘর নির্মাণের পরিবর্তে আকলিমা বেগমের চিকিৎসা, ওষুধ কেনা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এতে তাঁর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসারের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি ফিরবে।

 

অসহায় মানুষের বিপদে প্রবাসে থেকেও আনোয়ার হোসেনের এমন মানবিক সহযোগিতা এবং জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে আকলিমা বেগমের জীবনে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি ও তাঁর মেয়ে আনন্দিত।

×