| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

শেরপুরে তিন বছর পর অটোভ্যান চালক মন্নাছ হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেপ্তার-৩ 

শেরপুরে তিন বছর পর অটোভ্যান চালক মন্নাছ হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেপ্তার-৩ 

শেরপুরের নকলার চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক আঃ মন্নাছ হত্যার তিন বছর পর উদঘাটন হলো হত্যার রহস্য।

গতকাল বুধবার (১৯ আগষ্ট) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এতথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শেরপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত।

 

এসময় ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় তিনজনকে নকলা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানান তিনি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,  নকলা উপজেলার পাঠাকাটা গ্রামের নওয়াব আলীর ছেলে মোস্তাকিন (৩০), ভূরদী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মোঃ শাহীন (৪০) এবং টালকি উত্তরপাড়া গ্রামের ছায়েদুল ইসলামের ছেলে মোঃ স্বপন (৪২)।

 

পিবিআই জানায়, গত ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর শেরপুরের নকলা উপজেলার পশ্চিম টালকী গ্রামের মৃত হাবিল উদ্দিনের ছেলে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান চালক  আঃ মন্নাছ (৪৩) ভাড়া নেয়া একটি ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এদিকে নিখোঁজের দুইদিন পর ২৫ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে এগারোটায় নকলা মধ্য পাঠাকাটার বাঘমারি বিলে কচুরী পানার নীচে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরে নকলা থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে ময়না তদন্ত করে।

 

এ ঘটনায় একইদিন আঃ মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

পরবর্তীতে নকলা থানা পুলিশ সন্দেহজনক ৫ জনকে গ্রেফতার করলেও মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়নি। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআইকে। এরপর পিবিআই গত ১৩ আগষ্ট ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে মোস্তাকিম নামে একজনকে নকলা থেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এতে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ও ১৮ আগষ্ট নকলায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে এঘটনার সাথে জড়িত অপর দুই আসামী মোঃ শাহীন ও মোঃ স্বপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

 

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, ভ্যান চালক মন্নাছকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর কচুরি পানার নিচে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। পরে অটোকে ভাংগারি দোকানে ৮ হাজার ও ব্যাটারিগুলো ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।

 

এবিষয়ে পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, “মামলার ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক। নিহতের ব্যাটারি চালিত ভ্যানগাড়িটি আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভ্যানচালক আঃ মন্নাছকে হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের পর আসামীরা মন্নাছের মৃতদেহ গোপন করে এবং ভ্যানগাড়িটি বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে বিক্রি করে দেয়। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, তথ্য-প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং সার্বিক তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়।

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শরণখোলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

শেরপুরে তিন বছর পর অটোভ্যান চালক মন্নাছ হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেপ্তার-৩ 

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ ও যুব সংগঠনের অনুদানের চেক বিতরণ এবং গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি যুব র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

র‍্যালি শেষে উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজোয়ান ইফতেকারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শিশির কুমার দাস।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির এবং শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেন সুজন।

 

আলোচনা সভা শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যুব সংগঠনের মাঝে অনুদানের চেক এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে গাছের চারা রোপণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আকলিমা বেগমকে দিলেন ৬০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নির্মিত হলো বসতঘর

শেরপুরে তিন বছর পর অটোভ্যান চালক মন্নাছ হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেপ্তার-৩ 

মানবিকতার টানে হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী মো. আনোয়ার হোসেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অসহায় বিধবা আকলিমা বেগমের দুর্দশার কথা জানতে পেরে বসতঘর নির্মাণের জন্য তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা।

 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের উদ্যোগে আকলিমা বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে নতুন বসতঘর। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন অসহায় এই নারী।

 

মো. আনোয়ার হোসেন ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও নিজের শেকড় ও এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর টান অটুট রয়েছে। প্রবাসে থেকেও এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় এগিয়ে এসেছেন তিনি।

 

অসহায় আকলিমা বেগমের বাড়ি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে। জীবনের শেষ বয়সে এসে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাঁর। পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষ বলতে কার্যত কেউ নেই। দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। মায়ের খোঁজখবরও তেমন নেন না। একমাত্র মেয়েটিও বিধবা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের সামান্য উপার্জনেই কোনোরকমে চলে মা-মেয়ের সংসার।

 

পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যায়ও জর্জরিত আকলিমা বেগম। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় ওষুধের দোকানে জমেছে বকেয়া। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে বাকিতে ওষুধ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

 

শুধু চিকিৎসার সংকটই নয়, বসবাসের ঘরটিও ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। ভেঙে গিয়েছিল বেড়া, চালের টিন ও ঘরের খুঁটি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মা-মেয়ের বসবাস ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যেই কাটছিল তাঁদের জীবন।

 

সম্প্রতি আকলিমা বেগমের অসহায়ত্ব ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমেরিকা প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে। পরে তিনি তাঁর ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী সোহাগের মাধ্যমে আকলিমা বেগমের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বসতঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেন ৬০ হাজার টাকা।

 

এদিকে, আকলিমা বেগমের দুরবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের মানবিক উদ্যোগে অসহায় এই পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয় একটি নতুন বসতঘর। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুযোগ পেয়েছেন আকলিমা বেগম ও তাঁর মেয়ে।

 

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বসতঘর নির্মিত হওয়ায় প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের দেওয়া ৬০ হাজার টাকা এখন ঘর নির্মাণের পরিবর্তে আকলিমা বেগমের চিকিৎসা, ওষুধ কেনা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এতে তাঁর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসারের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি ফিরবে।

 

অসহায় মানুষের বিপদে প্রবাসে থেকেও আনোয়ার হোসেনের এমন মানবিক সহযোগিতা এবং জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে আকলিমা বেগমের জীবনে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি ও তাঁর মেয়ে আনন্দিত।

যুব সংগঠক হিসেবে জনসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলো সবুজ বাংলার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আলীম

শেরপুরে তিন বছর পর অটোভ্যান চালক মন্নাছ হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেপ্তার-৩ 

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেয়েছেন সবুজ বাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আব্দুল আলীম।

 

রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

 

খন্দকার আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে কলসপাড় ইউনিয়নে শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনে ভূমিকা রাখা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

এছাড়া ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

 

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল মালেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু সাঈম,

নয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান

মিজানুর রহমান এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আনারুল কবিরসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

 

বক্তারা যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

 

জাতীয় যুব দিবসে এ সম্মাননা অর্জন করায় খন্দকার আব্দুল আলীমের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

×