| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

আমি স্কুল জীবনে, ক্লাশ থ্রীতে পড়ার সময় থেকেই স্কুলের পাঠ্য বই পড়ার পাশাপাশি বাইরের বই পড়া শুরু করেছি। সেই কিশোর বেলায় থাকতেই আমার প্রচুর বই পড়া শেষ হয়ে গেছে।

 

ছোটোবেলায় আমাকে বই কিনে কিনে পড়তে হতো না। আমাদের ঘরেই ছিলো অসংখ্য বই। সেগুলিই পড়তাম মনোযোগ দিয়ে।

 

ক্লাশ ফাইভ শেষ করে যখন হাই স্কুলে ক্লাশ সিক্সে ভর্তি হলাম তখন পেয়ে গেলাম বিপুল বইয়ের সমাহার স্কুলের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।

 

হাই স্কুলে গিয়ে হাতে পেলাম কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রভৃতি লেখকের কারো কারো কিছু বই এবং কারো কারো সমস্ত বই।

 

এই সব বই পড়তে পড়তে আমার মনে একটা ধারণার জন্ম হলো যে, আমাদের দেশের আলেম সমাজ কোনো সাহিত্য চর্চা করে না। কোনো সাধারণ সাহিত্যের বই লেখে না। অর্থাৎ আমাদের বাংলা ভাষার জেনারেল সাহিত্যে কোনো হযরত মাওলানার পদচারণা নাই।

 

আরো উপরের ক্লাশে গিয়ে পড়লাম ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, ফররুখ আহমদ, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ টুপি-দাড়ি ওয়ালাদের লেখা। মনে করলাম আমার ধারণা ভুল। হুজুরগণও লেখালেখি করেন। এই তো হুজুরদের দেখা পেয়ে গেলাম।

 

কিন্তু এদের পরিচিতি পাঠ করে জানতে পারলাম যে, এরা আলেম নন। এরা ধার্মিক। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উচ্চ মাপের ইসলামি জ্ঞান সম্পন্ন বুদ্ধিজীবী। খাঁটি ইমানদার মানুষ। কিন্তু আলেম বা হুজুর নন।

 

আমার আশা ভঙ্গ হলো। আবার ভাবতে থাকলাম, তাহলে আলেমগণ সাহিত্য চর্চায় আসে না। সাহিত্য রচনায় তাদের আগ্রহ নাই। হয়তো সাহিত্য চর্চাকে তারা নিষিদ্ধ মনে করেন। কিংবা সাহিত্য চর্চাতে তারা উৎসাহ বা উদ্দম পান না।

 

কাজেই আমি ধরে নিলাম যে সাহিত্য নিয়ে নাড়াচাড়া করা আলেমদের কাজ নয়। তাদের মূল দায়িত্ব কোরআন হাদীস নিয়ে কাজ করা। সেগুলো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা। মসজিদে ঈমামতি করা, ওয়াজ নসিহত করা।

 

কিন্তু আমার এই ‘ধরে নেওয়াটা’ ভুল প্রমাণিত হলো কয়েকজন আলেমের সাথে পরিচিত হয়ে এবং তাদের সাহিত্যের সন্ধান পেয়ে।

 

সাহিত্যচর্চা এবং সাহিত্য সংগঠন করতে এসে মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন আলেমের সাথে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা স্থাপিত হলো তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, হযরত মাওলানা মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ হাফিজাহুল্লাহ।

 

একটা সাহিত্য সংগঠনের সভায় তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় এবং ঘনিষ্টতা। উঁচায় লম্বায় ভরাট স্বাস্থের অধিকারী, শক্তসামর্থ অমায়িক মানুষ তিনি। নিরহংকার, বিনয়ী, বুদ্ধিদীপ্ত সহজ সরল চেহারা তার।

 

তিনি একাধারে মাওলানা, মুফতি, মুহাদ্দিস, শিক্ষক, কবি, ছড়াকার, গীতিকার ও কথা সাহিত্যিক। একই সাথে অনেক গুণের অধিকারি।

 

মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ ১৯৯০ সনের ২০ নভেম্বর শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রামের এক সবুজ শ্যামল স্নিগ্ধ পরিবেশে এবং এক ঈমানদীপ্ত শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব মফিজ উদ্দীন সরকার, একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং মাতা নূরজাহান বেগম নূরেজা একজন স্বর্ণগর্ভা ঈমানদার বুদ্ধিমতী মহিলা।

 

প্রকৃতির অবারিত জান্নাতি পরিবেশে, যোগ্য মায়ের সতর্ক তত্বাবধানে তিনি ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন। অতঃপর যথা সময়ে তার পড়াশোনা শুরু হয়।

 

তিনি কওমী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ইসলামি লাইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) তার প্রত্যক্ষ উস্তাদ। তিনি তাঁর কাছে হাদিস অধ্যয়ণের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক দীক্ষাও গ্রহণ করেছেন। তার শিক্ষক ও মুর্শিদ আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) তার আধ্যাত্মিক সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে, তাকে চার তরিকার বায়আত গ্রহণ করার ইজাযত প্রদান করেন।

 

নূরুল ইসলাম নাযীফ ছোটোবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চা করে আসছেন।

 

তার সাহিত্যের মূল লক্ষ্যই হলো ইসলামি আমল আখলাক, আল্লাহর একত্ববাদ, এবং বৈচিত্র্যময় সৃষ্টজগতে আল্লাহর অপার মহিমাকে চিত্তাকর্ষক রূপে প্রকাশ করা।

 

ভাবগাম্ভীর্যময় শব্দদ্যোতনার মাধ্যমে, শিশুকিশোরসহ, সমাজের সকল স্তরের মানুষের অন্তরে জান্নাতি আলোরণ সৃষ্টি করাই তার সাহিত্যচর্চার মূল লক্ষ্য।

 

তিনি প্রচুর ছড়া, কবিতা এবং শিশুদের উপযোগী গল্প লিখে চলেছেন অনর্গল। তাছাড়া আরবি, ফারসি এবং উর্দু থেকে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত লেখকদের লেখা তিনি অনুবাদ করেছেন। তার লেখা গীতিকবিতা ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পীদের কণ্ঠে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে তার ছড়া-কবিতা একাধিক শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে।

 

তার লেখা দেশবিদেশের বিভিন্ন দৈনিক সাপ্তাহিক এবং মাসিক পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

 

বর্তমান পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৯টি।এগুলি হলোঃ- ১) অনবদ্য ছড়াপদ্য, ২) মনের পাতায় আঁকা ছবি, ৩) চার বছরের বুড়ো, ৪) বাংলার ছড়া, ৫) রহমাতুল্লিল আলামিন, ৬) সহজ উলূমুল হাদিস,৭) আশিকের ফরিয়াদ, ৮) সাকীয়ে কাওসার এবং ৯) মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়।

 

এগুলো ছাড়া তার আরও প্রায় চল্লিশোর্ধ্ব পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত আছে।

 

তিনি আমাদের শেরপুরের গর্ব। আমি তার নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

 

নূরুল ইসলাম মনি

লেখক: কবি ও ছড়াকার।

—————————————-

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শরণখোলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ ও যুব সংগঠনের অনুদানের চেক বিতরণ এবং গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি যুব র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

র‍্যালি শেষে উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজোয়ান ইফতেকারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শিশির কুমার দাস।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির এবং শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেন সুজন।

 

আলোচনা সভা শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যুব সংগঠনের মাঝে অনুদানের চেক এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে গাছের চারা রোপণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আকলিমা বেগমকে দিলেন ৬০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নির্মিত হলো বসতঘর

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

মানবিকতার টানে হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী মো. আনোয়ার হোসেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অসহায় বিধবা আকলিমা বেগমের দুর্দশার কথা জানতে পেরে বসতঘর নির্মাণের জন্য তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা।

 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের উদ্যোগে আকলিমা বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে নতুন বসতঘর। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন অসহায় এই নারী।

 

মো. আনোয়ার হোসেন ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও নিজের শেকড় ও এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর টান অটুট রয়েছে। প্রবাসে থেকেও এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় এগিয়ে এসেছেন তিনি।

 

অসহায় আকলিমা বেগমের বাড়ি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে। জীবনের শেষ বয়সে এসে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাঁর। পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষ বলতে কার্যত কেউ নেই। দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। মায়ের খোঁজখবরও তেমন নেন না। একমাত্র মেয়েটিও বিধবা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের সামান্য উপার্জনেই কোনোরকমে চলে মা-মেয়ের সংসার।

 

পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যায়ও জর্জরিত আকলিমা বেগম। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় ওষুধের দোকানে জমেছে বকেয়া। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে বাকিতে ওষুধ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

 

শুধু চিকিৎসার সংকটই নয়, বসবাসের ঘরটিও ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। ভেঙে গিয়েছিল বেড়া, চালের টিন ও ঘরের খুঁটি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মা-মেয়ের বসবাস ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যেই কাটছিল তাঁদের জীবন।

 

সম্প্রতি আকলিমা বেগমের অসহায়ত্ব ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমেরিকা প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে। পরে তিনি তাঁর ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী সোহাগের মাধ্যমে আকলিমা বেগমের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বসতঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেন ৬০ হাজার টাকা।

 

এদিকে, আকলিমা বেগমের দুরবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের মানবিক উদ্যোগে অসহায় এই পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয় একটি নতুন বসতঘর। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুযোগ পেয়েছেন আকলিমা বেগম ও তাঁর মেয়ে।

 

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বসতঘর নির্মিত হওয়ায় প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের দেওয়া ৬০ হাজার টাকা এখন ঘর নির্মাণের পরিবর্তে আকলিমা বেগমের চিকিৎসা, ওষুধ কেনা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এতে তাঁর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসারের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি ফিরবে।

 

অসহায় মানুষের বিপদে প্রবাসে থেকেও আনোয়ার হোসেনের এমন মানবিক সহযোগিতা এবং জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে আকলিমা বেগমের জীবনে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি ও তাঁর মেয়ে আনন্দিত।

যুব সংগঠক হিসেবে জনসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলো সবুজ বাংলার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আলীম

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেয়েছেন সবুজ বাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আব্দুল আলীম।

 

রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

 

খন্দকার আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে কলসপাড় ইউনিয়নে শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনে ভূমিকা রাখা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

এছাড়া ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

 

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল মালেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু সাঈম,

নয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান

মিজানুর রহমান এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আনারুল কবিরসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

 

বক্তারা যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

 

জাতীয় যুব দিবসে এ সম্মাননা অর্জন করায় খন্দকার আব্দুল আলীমের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

×