| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

গ্রন্থ: গানের কবিতা | লেখক: আশরাফ আলী চারু

 

বাংলা সাহিত্যে কবিতা ও গানের সম্পর্ক চিরকালীন। কবিতা যেখানে অনুভূতির ভাষা, গান সেখানে সেই অনুভূতির সুরময় প্রকাশ। তবে সময়ের পরিবর্তনে অনেক কবিতা যেমন সুরের সম্ভাবনা হারিয়েছে, তেমনি অনেক গানও হারিয়েছে কাব্যিক গভীরতা। কবি ও গীতিকার আশরাফ আলী চারু তাঁর ১৯তম প্রকাশনা ‘গানের কবিতা’ গ্রন্থে এই দুই ধারার মধ্যে এক সৃজনশীল সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন।

‘গানের কবিতা’ শুধুমাত্র কবিতার সংকলন নয়; এটি এমন কিছু শব্দের সমাহার, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে সুরের স্পন্দন। কবি নিজস্ব ভাবনা ও ছন্দের পরীক্ষায় বইটিকে দিয়েছেন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। তাঁর উদ্ভাবিত ‘চারু ছন্দ’ এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রচলিত ছন্দের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে তিনি অনুভব, লয় ও উচ্চারণের স্বাভাবিক প্রবাহকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে কবিতাগুলো পাঠের সময় শব্দের ভেতর থেকেই এক ধরনের সুরের আবহ তৈরি হয়।

বিষয়বৈচিত্র্যের দিক থেকেও গ্রন্থটি সমৃদ্ধ। দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, আধ্যাত্মিকতা, প্রকৃতি ও জীবনদর্শন—বিভিন্ন অনুষঙ্গ তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে। দেশাত্মবোধক কবিতাগুলোতে মাটি, মানুষ ও ইতিহাসের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ পাওয়া যায়। ‘বাঙালিয়ানা’ ভাবনার কবিতাগুলোতে তিনি ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐক্যের কথা বলেছেন।

গ্রন্থের ইসলামি গান, হামদ ও নাত অংশে কবির আধ্যাত্মিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। সেখানে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি রয়েছে বিনয়, আত্মসমর্পণ ও হৃদয়ের একান্ত আবেদন।

আশরাফ আলী চারুর কবিতায় প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। নদী, মাঠ, কাশফুল, মাটির গন্ধ—এসব শুধু বর্ণনার বিষয় নয়; এগুলো মানুষের স্মৃতি, অনুভব ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে গেছে। প্রকৃতির দৃশ্যের মধ্য দিয়ে তিনি জীবনের গভীর উপলব্ধিকে প্রকাশ করেছেন।

ভাষার ক্ষেত্রে কবির প্রধান শক্তি সরলতা। সহজ শব্দের ভেতর দিয়ে গভীর ভাব প্রকাশ তাঁর রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দেশজ শব্দের ব্যবহার, অনুপ্রাস ও অন্ত্যমিলের পরিমিত প্রয়োগ তাঁর কবিতাকে শ্রুতিমধুর করেছে।

তবে ‘গানের কবিতা’ গ্রন্থের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সুরমুখী কাব্যভাবনা। কবিতা ও গানের মাঝামাঝি এক নতুন প্রকাশভঙ্গির অনুসন্ধান এখানে লক্ষ করা যায়। এই পরীক্ষামূলক প্রয়াস বাংলা গীতিকবিতার ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

সবশেষে বলা যায়, ‘গানের কবিতা’ আশরাফ আলী চারুর সৃজনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা পাঠককে শুধু কবিতা পড়তে নয়, শব্দের ভেতরের সুর শুনতেও আহ্বান জানায়। বাংলা গীতিকবিতার ভাণ্ডারে বইটি নিজস্ব পরিচয় নিয়ে স্থান করে নেবে—এমন প্রত্যাশা করা যায়।

 

 

শেখ ফয়জুর রহমান

কবি, লেখক, সম্পাদক

—————————————-

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শরণখোলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ ও যুব সংগঠনের অনুদানের চেক বিতরণ এবং গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি যুব র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

র‍্যালি শেষে উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজোয়ান ইফতেকারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শিশির কুমার দাস।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির এবং শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেন সুজন।

 

আলোচনা সভা শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যুব সংগঠনের মাঝে অনুদানের চেক এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে গাছের চারা রোপণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আকলিমা বেগমকে দিলেন ৬০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নির্মিত হলো বসতঘর

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

মানবিকতার টানে হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী মো. আনোয়ার হোসেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অসহায় বিধবা আকলিমা বেগমের দুর্দশার কথা জানতে পেরে বসতঘর নির্মাণের জন্য তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা।

 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের উদ্যোগে আকলিমা বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে নতুন বসতঘর। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন অসহায় এই নারী।

 

মো. আনোয়ার হোসেন ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও নিজের শেকড় ও এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর টান অটুট রয়েছে। প্রবাসে থেকেও এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় এগিয়ে এসেছেন তিনি।

 

অসহায় আকলিমা বেগমের বাড়ি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে। জীবনের শেষ বয়সে এসে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাঁর। পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষ বলতে কার্যত কেউ নেই। দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। মায়ের খোঁজখবরও তেমন নেন না। একমাত্র মেয়েটিও বিধবা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের সামান্য উপার্জনেই কোনোরকমে চলে মা-মেয়ের সংসার।

 

পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যায়ও জর্জরিত আকলিমা বেগম। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় ওষুধের দোকানে জমেছে বকেয়া। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে বাকিতে ওষুধ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

 

শুধু চিকিৎসার সংকটই নয়, বসবাসের ঘরটিও ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। ভেঙে গিয়েছিল বেড়া, চালের টিন ও ঘরের খুঁটি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মা-মেয়ের বসবাস ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যেই কাটছিল তাঁদের জীবন।

 

সম্প্রতি আকলিমা বেগমের অসহায়ত্ব ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমেরিকা প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে। পরে তিনি তাঁর ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী সোহাগের মাধ্যমে আকলিমা বেগমের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বসতঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেন ৬০ হাজার টাকা।

 

এদিকে, আকলিমা বেগমের দুরবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের মানবিক উদ্যোগে অসহায় এই পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয় একটি নতুন বসতঘর। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুযোগ পেয়েছেন আকলিমা বেগম ও তাঁর মেয়ে।

 

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বসতঘর নির্মিত হওয়ায় প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের দেওয়া ৬০ হাজার টাকা এখন ঘর নির্মাণের পরিবর্তে আকলিমা বেগমের চিকিৎসা, ওষুধ কেনা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এতে তাঁর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসারের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি ফিরবে।

 

অসহায় মানুষের বিপদে প্রবাসে থেকেও আনোয়ার হোসেনের এমন মানবিক সহযোগিতা এবং জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে আকলিমা বেগমের জীবনে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি ও তাঁর মেয়ে আনন্দিত।

যুব সংগঠক হিসেবে জনসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেলো সবুজ বাংলার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আলীম

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিতকরণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিশেষ অবদান রাখায় সম্মাননা পেয়েছেন সবুজ বাংলা গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আব্দুল আলীম।

 

রবিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

 

খন্দকার আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে কলসপাড় ইউনিয়নে শতভাগ স্যানিটেশন কভারেজ অর্জনে ভূমিকা রাখা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং এতিম, দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

এছাড়া ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

 

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল মালেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবু সাঈম,

নয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান

মিজানুর রহমান এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আনারুল কবিরসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

 

বক্তারা যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

 

জাতীয় যুব দিবসে এ সম্মাননা অর্জন করায় খন্দকার আব্দুল আলীমের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

×