| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

ময়মনসিংহে অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন : মাদকবিরোধী প্রীতি ম্যাচে ক্রীড়াপ্রেমীদের ঢল

ময়মনসিংহে অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন : মাদকবিরোধী প্রীতি ম্যাচে ক্রীড়াপ্রেমীদের ঢল

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই পর্ব। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় ২৩০ জন তরুণ ফুটবলার দুইটি ভেন্যুতে অংশ নেন এই বাছাইয়ে। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বাছাই করা ৩০ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে পরবর্তী পর্যায়ের প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করা হয়।

 

বাছাই পর্ব শেষে ময়মনসিংহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ফুলবাড়ীয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় মাদকবিরোধী প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। খেলাটিকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

 

প্রীতি ম্যাচে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ীয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ বিভাগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাফরুল্লাহ কাজল। পুরো আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া অফিসার আল আমিন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম বলেন, মাদকমুক্ত প্রজন্ম গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই। ফুটবল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, এই খেলায় তরুণদের সম্পৃক্ততা তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে।

 

অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার মাধ্যমেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমরা চাই ময়মনসিংহ থেকেই উঠে আসুক জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়রা।

 

প্রাথমিক বাছাইয়ের পর নির্বাচিত ৩০ জন খেলোয়াড়কে জেলা ক্রীড়া অফিসের তত্ত্বাবধানে আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নিতে হবে। এই প্রশিক্ষণ শেষে সেরা খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া পরিদপ্তর আয়োজিত ডেভেলপমেন্ট ও বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।

 

জেলা ক্রীড়া অফিসার আল আমিন জানান, আমরা জেলা থেকে প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করতে চাই। যারা এই পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করবে, তারাই পরবর্তীতে জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ পাবে।

 

দিনব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে ফুলপুর ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত দর্শক মাঠে উপস্থিত হন। বাছাই ও প্রীতি ম্যাচ শেষে বিজয়ী খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

 

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ক্রীড়াবিদ ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রেখে ক্রীড়ামুখী সমাজ গঠনে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন : মাদকবিরোধী প্রীতি ম্যাচে ক্রীড়াপ্রেমীদের ঢল

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৪ নং সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১ নভেম্বর (রবিবার) সকাল ১০টায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

 

WMC কমিটির সভাপতি মো. মনির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে আলোচনা পরিচালনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস ও আবুল আসলাম তুহিন।

 

দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বিপুল সংখ্যক মৎস্যচাষি অংশ নেন। প্রশিক্ষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্যচাষের বিভিন্ন ব্যবহারিক কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকার মৎস্য খাত ঝুঁকিতে পড়ছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় চাষিদের আধুনিক কৌশলে অভ্যস্ত করা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

 

‘ওয়েটল্যান্ড ফর রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডরপ’ (DORP)-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করেন সংস্থাটির প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল মোতালেব ও মোঃ কবির হোসেন।

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শরণখোলায় জাতীয় যুব দিবস পালিত

ময়মনসিংহে অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন : মাদকবিরোধী প্রীতি ম্যাচে ক্রীড়াপ্রেমীদের ঢল

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা, যুব ঋণ ও যুব সংগঠনের অনুদানের চেক বিতরণ এবং গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।

 

উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে একটি যুব র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মিলনায়তনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

 

র‍্যালি শেষে উপজেলা মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজোয়ান ইফতেকারের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শিশির কুমার দাস।

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত, সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির এবং শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেন সুজন।

 

আলোচনা সভা শেষে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যুব সংগঠনের মাঝে অনুদানের চেক এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যুব ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবে গাছের চারা রোপণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

 

উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আকলিমা বেগমকে দিলেন ৬০ হাজার টাকা, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে নির্মিত হলো বসতঘর

ময়মনসিংহে অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল খেলোয়াড় বাছাই সম্পন্ন : মাদকবিরোধী প্রীতি ম্যাচে ক্রীড়াপ্রেমীদের ঢল

মানবিকতার টানে হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন আমেরিকা প্রবাসী মো. আনোয়ার হোসেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অসহায় বিধবা আকলিমা বেগমের দুর্দশার কথা জানতে পেরে বসতঘর নির্মাণের জন্য তাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা।

 

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের উদ্যোগে আকলিমা বেগমের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে নতুন বসতঘর। এতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় পেয়েছেন অসহায় এই নারী।

 

মো. আনোয়ার হোসেন ঝিনাইগাতী উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের বনগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও নিজের শেকড় ও এলাকার মানুষের প্রতি তাঁর টান অটুট রয়েছে। প্রবাসে থেকেও এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় এগিয়ে এসেছেন তিনি।

 

অসহায় আকলিমা বেগমের বাড়ি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে। জীবনের শেষ বয়সে এসে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটছিল তাঁর। পরিবারে উপার্জনক্ষম মানুষ বলতে কার্যত কেউ নেই। দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়েছেন। মায়ের খোঁজখবরও তেমন নেন না। একমাত্র মেয়েটিও বিধবা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের সামান্য উপার্জনেই কোনোরকমে চলে মা-মেয়ের সংসার।

 

পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যায়ও জর্জরিত আকলিমা বেগম। অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় ওষুধের দোকানে জমেছে বকেয়া। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় একপর্যায়ে বাকিতে ওষুধ পাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়।

 

শুধু চিকিৎসার সংকটই নয়, বসবাসের ঘরটিও ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত। ভেঙে গিয়েছিল বেড়া, চালের টিন ও ঘরের খুঁটি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মা-মেয়ের বসবাস ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যেই কাটছিল তাঁদের জীবন।

 

সম্প্রতি আকলিমা বেগমের অসহায়ত্ব ও মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি আমেরিকা প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের নজরে আসে। পরে তিনি তাঁর ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী সোহাগের মাধ্যমে আকলিমা বেগমের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বসতঘর নির্মাণের সহায়তা হিসেবে তাঁর হাতে তুলে দেন ৬০ হাজার টাকা।

 

এদিকে, আকলিমা বেগমের দুরবস্থার বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের মানবিক উদ্যোগে অসহায় এই পরিবারের জন্য নির্মাণ করে দেওয়া হয় একটি নতুন বসতঘর। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার সুযোগ পেয়েছেন আকলিমা বেগম ও তাঁর মেয়ে।

 

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বসতঘর নির্মিত হওয়ায় প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের দেওয়া ৬০ হাজার টাকা এখন ঘর নির্মাণের পরিবর্তে আকলিমা বেগমের চিকিৎসা, ওষুধ কেনা ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা সম্ভব হবে। এতে তাঁর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংসারের কিছুটা আর্থিক স্বস্তি ফিরবে।

 

অসহায় মানুষের বিপদে প্রবাসে থেকেও আনোয়ার হোসেনের এমন মানবিক সহযোগিতা এবং জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে আকলিমা বেগমের জীবনে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও চিকিৎসার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি ও তাঁর মেয়ে আনন্দিত।

×