| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে

নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে

নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

যাচাই-বাছাইয়ে ৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৩জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৮প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারদের তথ্যে গড়মিল ও ঋণখেলাপী থাকায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

 

রোববার (৪জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম চলে। সেখানে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম জমাকৃত মনোনয়নত্রের বৈধ ও অবৈধ ঘোষণা করেন।

 

নওগাঁ-১:

নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-১ আসনে ৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তিন জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

 

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থীর মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী। আর নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মাহমুদুস সালেহীন, ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সোহরাব হোসেন মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

 

নওগাঁ-২

পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৬জন প্রার্থী। ৬ জনেরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী সামসুজ্জোহা খান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এনামুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হুমায়ন কবির চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ও এবি পার্টির প্রার্থী মতিবুল ইসলাম।

 

নওগাঁ-৩:

মহাদেবপুর-বদলগাছী উপজেলা নিয়ে নওগাঁ-৩ আসনে ৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৬জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা, বাসদের প্রার্থী কালিপদ সরকার, বিএনএফ এর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নাসির বিন আসগর। এবং ১শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক ডেপুটি স্পিকার প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

 

নওগাঁ-৪:

মান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৭জন প্রার্থী। তার মধ্যে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুই জনের বাতিল করা হয়েছে।

 

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী ইকরামুল বারী টিপু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, সিপিবির প্রার্থী ডা: এস এম ফজলুর রহমানের। ১শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা আহমেদ ফেন্সী ও ঋণ খেলাপীর কারণে আব্দুস সামাদ প্রামানিক এর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এবং মামলার তথ্য গোপন রাখায় মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

নওগাঁ-৫:

নওগাঁ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৫ আসনে ৭জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৬জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এক জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

 

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আ স ম সায়েম, সিপিবির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রহমান, এবি পার্টির কাজী আতিকুর রহমান এবং জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন। আর বিএনপি পরিচয় দিলেও সঠিক তথ্য না থাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক সনির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

 

নওগাঁ-৬:

জেলার সর্বশেষ আসন নওগাঁ-৬। রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ৫জন প্রার্থী। এদিন ৫জন প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান রতন মোল্লা। এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বৈধ হয়েছেন বিএনপির চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির।

 

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ আর ৮জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েয়ে। যারা বাতিল হয়েছেন, তারা চাইলে সবাই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।’সেটা আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে করা যাবে।

 

এদিকে মামলার তথ্য সংক্রান্ত তথ্যে গড়মিল থাকায় দুই জনের মনোনয়নপত্র কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে তাদের বৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই চলমানের সময় গণভোট সম্পর্কেও ধারণা ও উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশনা হয় উপস্থিত প্রার্থী ও সমর্থকদের।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব ও অতিরিক্ত পুলিশসহ (ক্রাইম) জয়ব্রত পালসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা।

বগুড়ার মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের দখলে

নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে

পাসের হার কমলেও সাফল্যের শীর্ষে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ শিক্ষার্থী

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়া জেলায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। জেলার মোট ১ হাজার ৩০৯ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪৭ জনই এ কলেজের। অর্থাৎ জেলার মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৫৭ শতাংশ অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

সার্বিক ফলাফলে বিপর্যয়ের মধ্যেও এমন সাফল্য সরকারি আজিজুল হক কলেজকে জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।

 

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ জন শিক্ষার্থী।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম ফলাফল সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করা এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

 

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল

 

বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাসের হারে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

 

মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

 

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন।

 

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।

 

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৩৬ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। অন্যদিকে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন।

 

বগুড়া সরকারি কলেজের পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন শিক্ষার্থী।

 

দুই সরকারি কলেজে তুলনামূলক কম ফলাফল

 

জেলার অন্য দুটি বড় সরকারি কলেজের ফলাফলে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

 

অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন শিক্ষার্থী।

 

পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি

 

এবার বগুড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব

 

ফলাফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও সরকারি আজিজুল হক কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য বগুড়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। জেলার মোট জিপিএ-৫-এর অর্ধেকেরও বেশি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিজেদের সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছে।

 

সার্বিকভাবে বগুড়ার এইচএসসি ফলাফলে একদিকে যেমন পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে, অন্যদিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজের উল্লেখযোগ্য সাফল্য জেলার শিক্ষাঙ্গনে আশার আলো দেখিয়েছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুলবাড়ীয়ায় যুবদলের স্মরণকালের বৃহৎ শোভাযাত্রা, নেতাকর্মীদের ঢল

নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে

আকাশজুড়ে বৃষ্টি, থেমে থেমে বর্ষণ তবুও থেমে থাকেনি যুবদলের নেতাকর্মীদের পদযাত্রা। বৃষ্টি-বাদল মাথায় নিয়ে হাজারো নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ফুলবাড়ীয়ায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ শোভাযাত্রা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে সদরের কেআই সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইমরুল কায়েস এলিস।

শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পৌর বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় বৃষ্টির মধ্যেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বৃষ্টির কারণে অনেকেই যখন ঘরের বাইরে বের হতে দ্বিধা করছিলেন, তখন যুবদলের নেতাকর্মীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে পৌর বাজারের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৃষ্টিতে ভিজেও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও সাংগঠনিক উপস্থিতি পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শোভাযাত্রাটি ভালুকজান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সরকার, পৌর যুবদলের আকরাম শিকদার, আঃ লতিফ মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা আজিজ, রিপন, আকরাম, হুমায়ুন কবির ও আরজু। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজিএম ফাহাদ, শহিদুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রোমান মিয়া, মো. রাশেদ, মোঃ মোবারক মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রা শেষে ইমরুল কায়েস এলিস বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জননেতা আব্দুল করিম সরকারের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আজকের এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করেছে, প্রতিকূল আবহাওয়াও যুবদলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ঐক্য ও মনোবলকে দমিয়ে রাখতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, যুবদল শুধু রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেই নয়, মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকতে চায়। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন আগামী দিনে ফুলবাড়ীয়া যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলবাড়ীয়ায় বৃদ্ধা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা হযরত আলীকে বহিষ্কার 

নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পুটিজানা ইউনিয়নে কারাবন্দী স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাসে এক  বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

 

 

ভুক্তভোগী নারী বৈলাজান গ্রামের সেনেটারী মিস্ত্রি  দুলাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি অতীতে ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

 

মামলা সুত্রে পুলিশ জানায়, মারামারির একটি মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী কারাগারে যান। হযরত আলী বৃদ্ধা মহিলার স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে একাধিক বার তার বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। এক পর্যায়ে সেই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন লম্পট যুবদল নেতা। নারী রাজি না হওয়ায় জোর করে ঝাপিয়ে পড়েন তার উপর। এ ধরনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২০ অক্টোবর সকালে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় হযরত আলী মন্ডল। পরে তিনি ফুলবাড়ীয়া থানায় সেই ব্যক্তির নামে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

 

 

ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিরক্ত করে আসছিলো এবং সম্প্রতি ধর্ষণের চেষ্টাও করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

 

 

এই বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ভিডিওতে বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে, এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। মামলার পর থেকে হযরত আলী পলাতক রয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

এই বিষয় জানতে অভিযুক্ত হযরত আলীকে কল দেওয়া হলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ভিডিও ভাইরালের খবরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ  বলেন, দলীয় নীতি, আদর্শ পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় পুটিজানা ইউনিয়নের হযরত আলী মন্ডলকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি জনাব রিয়াজুল কবির মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিদারুল ইসলাম খান রাজু এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। যুবদলের সকল নেতাকর্মীদের হযরত আলীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।

×