| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

আজ ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস। দ্বিতীয় হিজরির এই দিনে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ মার্চ মদিনা মুনাওয়ারা থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে ঐতিহাসিক বদর নামক স্থানে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ ‘বদর’। ইসলামের ইতিহাসে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে এ যুদ্ধ। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রথম যুদ্ধ ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মদিনার মুসলমানদের সঙ্গে মক্কার মুশরিকদের প্রথম বড় যুদ্ধ এটি। ‘বদর যুদ্ধ’ ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ যুদ্ধের বিজয়ই মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়।

 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বিশেষ সাহায্যে দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মদিনা থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণকারী এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আর তাতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় অর্জিত হয়। এটি ইসলামের ইতিহাসে বদরযুদ্ধ হিসেবে পরিচিত।

 

এ যুদ্ধে মানুষের সব ধারণা নাকচ করে দিয়ে প্রায় উপকরণহীন মুষ্টিমেয় দলটিকে জয়ী করেন মহান রাব্বুল আলামিন। সত্য-মিথ্যার চিরন্তন দ্বন্দ্বের ইতিহাসে সংযোজিত হয় নতুন অধ্যায়। তাই শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে এ দিনটি অনন্য অবস্থান দখল করে রেখেছে।

 

ইসলামের ইতিহাসে বদর যুদ্ধের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সীমাহীন। ১৭ রমজানের এ প্রেক্ষাপট ইসলামে বিশেষভাবে সংরক্ষিত। এ দিন ৩১৩ জন সাহাবিকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে তৎকালীন সময়ের আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত মক্কার কাফের-মুশরিকদের সঙ্গে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল রক্তক্ষয়ী বদর যুদ্ধ। মুসলমানদের মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এ যুদ্ধে ফেরেশতাদের মাধ্যমে বিশেষভাবে সাহায্য করে ঐতিহাসিক বিজয় দান করেছিলেন।

 

তাওহিদ তথা একত্ববাদের বার্তাবাহক মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এটি ছিল প্রথম বড় সামরিক যুদ্ধ। এই যুদ্ধের আগে মুসলমান ও মুশরিকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি খণ্ডযুদ্ধ হলেও বদরের যুদ্ধ ছিল দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম বড় যুদ্ধ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে। ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ও মদিনা রাষ্ট্রে ভিত্তি তৈরিতে এ যুদ্ধে বিজয় বিশেষ ভূমিকা রাখে।

 

মুসলিম বাহিনী প্রতিকূল পরিস্থিতি ও অবস্থানে থেকে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বদর যুদ্ধের সময় মুসলিম বাহিনী যে প্রান্তরের অবস্থান নিয়েছিলেন, সে স্থানটিতে সূর্যের তেজ সরাসরি তাদের মুখের ওপর পড়ে। আর কাফেরদের মুখে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পড়ে না। আবার মুসলমানরা যেখানে দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেন, সেখানে বালুময় মাটি, যা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত নয়। অপর দিকে কাফেররা যেখানে অবস্থান নিয়েছিল, সেখানে মাটি শক্ত ও যুদ্ধের জন্য স্থানটি উপযুক্ত। এত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মহান আল্লাহ মুসলিম বাহিনীকে বিজয় দান করেন। এটি ইসলামের অনেক বড় বিজয়েরই নামান্তর।

 

ইসলামের বিরুদ্ধে বিশাল সৈন্য বাহিনীর মোকাবিলায় ঈমানদারদের ছোট একটি দলের সম্মুখ সংগ্রাম ছিল এটি। ঐতিহাসিক এ যুদ্ধে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জেহেলের নেতৃত্বে ছিল এক হাজার প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী। এ যুদ্ধে মানুষের ধারণাপ্রসূত সব রকমের চিন্তা ও উপলব্ধির বাইরে গিয়ে আল্লাহ তাআলা অস্ত্রহীন ঈমানদারদের অতিক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন।

 

সেদিন ইসলামে দীক্ষিত নব মুসলিমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেছিল, জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আবার সম্মান অপমানও আল্লাহর হাতে। সেদিন বদরের প্রান্তরে ঈমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক অন্যরকম ইতিহাস রচিত হয়েছিল। যা যুগ যুগ পর্যন্ত এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

 

বদর প্রান্তরে এক আল্লাহর প্রতি একান্ত আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই মুসলিম বাহিনী যুদ্ধ করেছিলেন। শান্তি ও নিরাপত্তা বীজ বপন করেছিলেন। সংখ্যা, সরঞ্জাম ও সম্পদ কম থাকার পরও মহান আল্লাহ দান করেছিলেন এক সুস্পষ্ট বিজয়।

 

ঐতিহাসিক তথ্য মতে, ১৬ রমজান মাগরিবের পর তারিখ পরিবর্তন হয়ে ১৭ রমজান শুরু হলো। সেই রাতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিরা বদর প্রান্তের তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। অপরদিকে কাফেররাও তাদের ক্যাম্পে অবস্থান করছিল।

 

১৭ রমজানের বিশেষ এই রাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ দোয়া করেছিলেন। ইসলামের বিজয়ে জন্য কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে সাহায্য কামনা করেছিলেন এভাবে- ‘হে আল্লাহ! আগামীকালের (সত্য-মিথ্যার) নীতিনির্ধারণী যুদ্ধে তোমার সাহায্য আমাদের অতি প্রয়োজন। এ যুদ্ধে আমরা তোমার সাহায্য ছাড়া বিজয় লাভ করতে পারব না। আর আমরা যদি পরাজিত হই তাহলে তোমাকে সেজদা করার কিংবা তোমার নাম ধরে ডাকার লোক এ পৃথিবীতে আর নাও থাকতে পারে। অতপর তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, তুমি কী করবে। কারণ, তুমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মালিক। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে যাবো। আমরা আমাদের জীবন তোমার পথে উৎসর্গ করলাম। বিনিময়ে তোমার দ্বীনকে আমরা তোমার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তুমি আমাদেরকে বিজয় দান করো। আমরা তোমার কাছে সাহায্য চাই।’ (যুরকানি, সিরাতে ইবনে হিশাম)

 

আল্লাহ তাআলা নব মুসলিম ও নতুন রাষ্ট্রে দান করলেন বিজয়। নিরস্ত্র মুসলিমরা অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনীকে পরাজিত করলেন। এ যুদ্ধে কাফেরদের পক্ষে নিহত হলো ৭০ জন। বন্দি হয় আরও ৭০ জন। আর মুসলমানদের মধ্যে চৌদ্দজন সাহাবি শহীদ হন।

 

ঐতিহাসিক বদর প্রান্তরে মুসলিমদের জন্য ছিল অভাবনীয় বিজয়। মহান আল্লাহর একান্ত কুদরতের প্রমাণ। তিনি অল্প সংখ্যক লোক দিয়েও বিজয় দান করেন। তাতে সূচনা হয়েছিল ইসলাম বিজয়। তাই প্রতি বছর ১৭ রমজান বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ঐতিহাসিক ‘বদর দিবস’।

 

বদর দিবসে মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে দান করুন মুসলমানদের বিজয়। সব নিয়ামত, মাগফেরাত ও নাজাতে ভরে ওঠুক রোজাদারের আমল ও মন। বদর যুদ্ধের বিজয় হয়ে থাকুক সব বিপদে মুমিন মুসলমানের অনুপ্রেরণা। আল্লাহ তাআলা বদর যুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সাহাবাদের দান করুন জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা, সম্মান ও শান্তি। আমিন।

বগুড়ার মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের দখলে

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

পাসের হার কমলেও সাফল্যের শীর্ষে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ শিক্ষার্থী

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়া জেলায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। জেলার মোট ১ হাজার ৩০৯ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪৭ জনই এ কলেজের। অর্থাৎ জেলার মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৫৭ শতাংশ অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

সার্বিক ফলাফলে বিপর্যয়ের মধ্যেও এমন সাফল্য সরকারি আজিজুল হক কলেজকে জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।

 

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ জন শিক্ষার্থী।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম ফলাফল সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করা এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

 

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল

 

বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাসের হারে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

 

মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

 

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন।

 

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।

 

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৩৬ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। অন্যদিকে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন।

 

বগুড়া সরকারি কলেজের পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন শিক্ষার্থী।

 

দুই সরকারি কলেজে তুলনামূলক কম ফলাফল

 

জেলার অন্য দুটি বড় সরকারি কলেজের ফলাফলে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

 

অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন শিক্ষার্থী।

 

পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি

 

এবার বগুড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব

 

ফলাফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও সরকারি আজিজুল হক কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য বগুড়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। জেলার মোট জিপিএ-৫-এর অর্ধেকেরও বেশি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিজেদের সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছে।

 

সার্বিকভাবে বগুড়ার এইচএসসি ফলাফলে একদিকে যেমন পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে, অন্যদিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজের উল্লেখযোগ্য সাফল্য জেলার শিক্ষাঙ্গনে আশার আলো দেখিয়েছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুলবাড়ীয়ায় যুবদলের স্মরণকালের বৃহৎ শোভাযাত্রা, নেতাকর্মীদের ঢল

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

আকাশজুড়ে বৃষ্টি, থেমে থেমে বর্ষণ তবুও থেমে থাকেনি যুবদলের নেতাকর্মীদের পদযাত্রা। বৃষ্টি-বাদল মাথায় নিয়ে হাজারো নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ফুলবাড়ীয়ায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ শোভাযাত্রা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে সদরের কেআই সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইমরুল কায়েস এলিস।

শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পৌর বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় বৃষ্টির মধ্যেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বৃষ্টির কারণে অনেকেই যখন ঘরের বাইরে বের হতে দ্বিধা করছিলেন, তখন যুবদলের নেতাকর্মীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে পৌর বাজারের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৃষ্টিতে ভিজেও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও সাংগঠনিক উপস্থিতি পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শোভাযাত্রাটি ভালুকজান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সরকার, পৌর যুবদলের আকরাম শিকদার, আঃ লতিফ মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা আজিজ, রিপন, আকরাম, হুমায়ুন কবির ও আরজু। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজিএম ফাহাদ, শহিদুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রোমান মিয়া, মো. রাশেদ, মোঃ মোবারক মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রা শেষে ইমরুল কায়েস এলিস বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জননেতা আব্দুল করিম সরকারের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আজকের এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করেছে, প্রতিকূল আবহাওয়াও যুবদলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ঐক্য ও মনোবলকে দমিয়ে রাখতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, যুবদল শুধু রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেই নয়, মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকতে চায়। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন আগামী দিনে ফুলবাড়ীয়া যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলবাড়ীয়ায় বৃদ্ধা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা হযরত আলীকে বহিষ্কার 

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পুটিজানা ইউনিয়নে কারাবন্দী স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাসে এক  বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

 

 

ভুক্তভোগী নারী বৈলাজান গ্রামের সেনেটারী মিস্ত্রি  দুলাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি অতীতে ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

 

মামলা সুত্রে পুলিশ জানায়, মারামারির একটি মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী কারাগারে যান। হযরত আলী বৃদ্ধা মহিলার স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে একাধিক বার তার বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। এক পর্যায়ে সেই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন লম্পট যুবদল নেতা। নারী রাজি না হওয়ায় জোর করে ঝাপিয়ে পড়েন তার উপর। এ ধরনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২০ অক্টোবর সকালে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় হযরত আলী মন্ডল। পরে তিনি ফুলবাড়ীয়া থানায় সেই ব্যক্তির নামে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

 

 

ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিরক্ত করে আসছিলো এবং সম্প্রতি ধর্ষণের চেষ্টাও করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

 

 

এই বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ভিডিওতে বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে, এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। মামলার পর থেকে হযরত আলী পলাতক রয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

এই বিষয় জানতে অভিযুক্ত হযরত আলীকে কল দেওয়া হলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ভিডিও ভাইরালের খবরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ  বলেন, দলীয় নীতি, আদর্শ পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় পুটিজানা ইউনিয়নের হযরত আলী মন্ডলকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি জনাব রিয়াজুল কবির মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিদারুল ইসলাম খান রাজু এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। যুবদলের সকল নেতাকর্মীদের হযরত আলীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।

×