| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

মুমিনের জীবন হলো আল্লাহমুখী জীবন। তার ভালোবাসা, ঘৃণা, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি। ইসলামে শুধু নামাজ-রোজাই নয়; বরং মানুষের সঙ্গে আচরণ, সম্পর্ক ও অনুভূতিও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রবন্ধে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও শত্রুতার গুরুত্ব, কুরআন-হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো।

 

ঈমান পূর্ণতার মানদণ্ড

 

হযরত আবু উমামাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন— “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, আল্লাহর জন্য শত্রুতা করে, আল্লাহর জন্য দান করে এবং আল্লাহর জন্যই দান করা থেকে বিরত থাকে—সে তার ঈমানকে পূর্ণতা দান করল।” (সুনানে আবু দাউদ)

এই হাদিসে ঈমানের পূর্ণতার চারটি মৌলিক মানদণ্ড উল্লেখ করা হয়েছে—ভালোবাসা, শত্রুতা, দান ও দান থেকে বিরত থাকা; সবকিছুই হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

 

মুসলিম জীবনের মূল লক্ষ্য: আল্লাহর সন্তুষ্টি

 

একজন মুসলমানের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দি অর্জন করা। তাই তার প্রতিটি কথা, কাজ, আচরণ ও সিদ্ধান্তে এই চেতনা থাকা আবশ্যক—আল্লাহ কি এতে সন্তুষ্ট হবেন? যখন মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও সম্পর্ক আল্লাহর ইচ্ছার অধীন হয়ে যায়, তখনই তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করে।

 

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা: আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথ

 

হযরত মু‘আয (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: “যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর ভালোবাসে—তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত।” (মিশকাতুল মাসাবীহ)

আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা মানে মূলত আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব ও মর্যাদাকে সম্মান করা। এ ভালোবাসা কোনো স্বার্থ, আত্মীয়তা বা লেনদেনের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং একান্তই ঈমানি সম্পর্ক।

 

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল

 

হযরত আবু যর গিফারী (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন— “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো—আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা।” (মুসনাদে আহমাদ)

এই হাদিস প্রমাণ করে যে ঈমান শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যেও তার প্রতিফলন ঘটতে হবে।

 

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার অনন্য প্রতিদান

 

হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) বর্ণনা করেন—এক ব্যক্তি শুধু আল্লাহর জন্য তার এক মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিল। আল্লাহ তায়ালা একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে তাকে জানিয়ে দেন— “আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, যেমন তুমি আল্লাহর জন্য তাকে ভালোবাসো।” (সহিহ মুসলিম)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়—আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এতটাই মূল্যবান যে, এর সংবাদ আল্লাহ নিজে ফেরেশতার মাধ্যমে পৌঁছে দেন।

 

দুনিয়াবি স্বার্থনির্ভর ভালোবাসার ভ্রান্তি

 

আজ সমাজে ভালোবাসা ও শত্রুতার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে দুনিয়াবি লাভ-লোকসান। কেউ উপকার করলে সে সম্মান পায়, আর উপকারে না এলে অবহেলিত হয়। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো—রক্তের সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহায়তা বা সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে ভালোবাসা ও ঘৃণা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

 

যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, সৃষ্টিও তাকে ভালোবাসে

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন— “আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে বলেন: আমি তাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো… অতঃপর আসমান ও জমিনবাসীর হৃদয়ে তার ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়।” (সহিহ মুসলিম)

এই কারণেই আল্লাহওয়ালাদের প্রতি মানুষের হৃদয় আপনাআপনি আকৃষ্ট হয়।

 

কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান

 

হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— “কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: কোথায় তারা, যারা আমার মহিমার কারণে পরস্পর ভালোবাসত? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়ায় স্থান দেব।” (সহিহ মুসলিম)

 

ঈর্ষণীয় একদল মানুষ

 

হযরত উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

এমন কিছু বান্দা থাকবে, যারা নবী বা শহীদ নয়; কিন্তু তাদের মর্যাদা দেখে নবী ও শহীদরাও ঈর্ষা করবেন। তারা হলেন— “যারা কোনো আত্মীয়তা বা আর্থিক সম্পর্ক ছাড়াই, কেবল আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসত।” (সুনানে আবু দাউদ)

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করেন—

“জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।” (সূরা ইউনুস: ৬২)

 

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা ও শত্রুতা—এটাই পূর্ণ ঈমানের আলামত। যদি আমাদের সম্পর্কের মানদণ্ড আল্লাহমুখী হয়, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা নিশ্চিত।

 

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য, পারস্পরিক ভালোবাসা ও শত্রুতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক পরিচিতি:

মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

কবি ও শিক্ষক।

বগুড়ার মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের দখলে

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

পাসের হার কমলেও সাফল্যের শীর্ষে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ শিক্ষার্থী

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়া জেলায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। জেলার মোট ১ হাজার ৩০৯ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪৭ জনই এ কলেজের। অর্থাৎ জেলার মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৫৭ শতাংশ অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

সার্বিক ফলাফলে বিপর্যয়ের মধ্যেও এমন সাফল্য সরকারি আজিজুল হক কলেজকে জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।

 

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ জন শিক্ষার্থী।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম ফলাফল সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করা এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

 

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল

 

বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাসের হারে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

 

মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

 

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন।

 

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।

 

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৩৬ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। অন্যদিকে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন।

 

বগুড়া সরকারি কলেজের পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন শিক্ষার্থী।

 

দুই সরকারি কলেজে তুলনামূলক কম ফলাফল

 

জেলার অন্য দুটি বড় সরকারি কলেজের ফলাফলে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

 

অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন শিক্ষার্থী।

 

পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি

 

এবার বগুড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব

 

ফলাফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও সরকারি আজিজুল হক কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য বগুড়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। জেলার মোট জিপিএ-৫-এর অর্ধেকেরও বেশি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিজেদের সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছে।

 

সার্বিকভাবে বগুড়ার এইচএসসি ফলাফলে একদিকে যেমন পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে, অন্যদিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজের উল্লেখযোগ্য সাফল্য জেলার শিক্ষাঙ্গনে আশার আলো দেখিয়েছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুলবাড়ীয়ায় যুবদলের স্মরণকালের বৃহৎ শোভাযাত্রা, নেতাকর্মীদের ঢল

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

আকাশজুড়ে বৃষ্টি, থেমে থেমে বর্ষণ তবুও থেমে থাকেনি যুবদলের নেতাকর্মীদের পদযাত্রা। বৃষ্টি-বাদল মাথায় নিয়ে হাজারো নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ফুলবাড়ীয়ায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ শোভাযাত্রা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে সদরের কেআই সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইমরুল কায়েস এলিস।

শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পৌর বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় বৃষ্টির মধ্যেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বৃষ্টির কারণে অনেকেই যখন ঘরের বাইরে বের হতে দ্বিধা করছিলেন, তখন যুবদলের নেতাকর্মীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে পৌর বাজারের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৃষ্টিতে ভিজেও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও সাংগঠনিক উপস্থিতি পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শোভাযাত্রাটি ভালুকজান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সরকার, পৌর যুবদলের আকরাম শিকদার, আঃ লতিফ মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা আজিজ, রিপন, আকরাম, হুমায়ুন কবির ও আরজু। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজিএম ফাহাদ, শহিদুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রোমান মিয়া, মো. রাশেদ, মোঃ মোবারক মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রা শেষে ইমরুল কায়েস এলিস বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জননেতা আব্দুল করিম সরকারের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আজকের এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করেছে, প্রতিকূল আবহাওয়াও যুবদলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ঐক্য ও মনোবলকে দমিয়ে রাখতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, যুবদল শুধু রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেই নয়, মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকতে চায়। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন আগামী দিনে ফুলবাড়ীয়া যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলবাড়ীয়ায় বৃদ্ধা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা হযরত আলীকে বহিষ্কার 

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পুটিজানা ইউনিয়নে কারাবন্দী স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাসে এক  বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

 

 

ভুক্তভোগী নারী বৈলাজান গ্রামের সেনেটারী মিস্ত্রি  দুলাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি অতীতে ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

 

মামলা সুত্রে পুলিশ জানায়, মারামারির একটি মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী কারাগারে যান। হযরত আলী বৃদ্ধা মহিলার স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে একাধিক বার তার বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। এক পর্যায়ে সেই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন লম্পট যুবদল নেতা। নারী রাজি না হওয়ায় জোর করে ঝাপিয়ে পড়েন তার উপর। এ ধরনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২০ অক্টোবর সকালে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় হযরত আলী মন্ডল। পরে তিনি ফুলবাড়ীয়া থানায় সেই ব্যক্তির নামে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

 

 

ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিরক্ত করে আসছিলো এবং সম্প্রতি ধর্ষণের চেষ্টাও করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

 

 

এই বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ভিডিওতে বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে, এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। মামলার পর থেকে হযরত আলী পলাতক রয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

এই বিষয় জানতে অভিযুক্ত হযরত আলীকে কল দেওয়া হলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ভিডিও ভাইরালের খবরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ  বলেন, দলীয় নীতি, আদর্শ পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় পুটিজানা ইউনিয়নের হযরত আলী মন্ডলকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি জনাব রিয়াজুল কবির মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিদারুল ইসলাম খান রাজু এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। যুবদলের সকল নেতাকর্মীদের হযরত আলীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।

×