| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

ময়মনসিংহে ১৭৯তম বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে ১৭৯তম বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বিশ্বব্যাপী উদযাপিত ১৭৯তম বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহে আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার। এতে অংশ নেন ময়মনসিংহের স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ, চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবী।

 

দিনব্যাপী এ আয়োজনে এনেস্থেসিয়ার গুরুত্ব, ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে উঠে আসে বিভিন্ন দিক। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, “Anesthesia in Health Emergency” অর্থাৎ, স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে এনেস্থেসিয়ার অপরিহার্যতা।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়। র‌্যালিটি কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন শতাধিক চিকিৎসক, নার্স, ইন্টার্ন, প্যারামেডিকস ও শিক্ষার্থীরা।

 

আলোচনা সভা ও র‌্যালি শেষে কলেজ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভার। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমএ-সিসিপিপি ময়মনসিংহ শাখার আহ্বায়ক, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী।

 

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফেরদৌস।

তিনি বলেন, ১৮৪৬ সালে এনেস্থেসিয়ার আবিষ্কার চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। এ পেশার মানুষরা সবসময় পর্দার আড়ালে থাকেন, কিন্তু তাদের অবদান অপরিসীম। অস্ত্রোপচার, ইনটেনসিভ কেয়ার ও জরুরি চিকিৎসা সেবায় এনেস্থেসিস্টদের দক্ষতা ছাড়া স্বাস্থ্যখাত অচল হয়ে পড়ত। বর্তমানে প্রয়োজন আরও দক্ষ জনবল, আরও প্রশিক্ষণ।

 

অনুষ্ঠানে “Anesthesia in Health Emergency” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ।

 

তিনি বলেন, যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা, অপারেশন কিংবা সংকটকালে রোগীর প্রাণ বাঁচাতে এনেস্থেসিয়ার প্রয়োজনীয়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। আধুনিক চিকিৎসার অগ্রগতির সাথে সাথে এনেস্থেসিয়ার পরিধিও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যখাতে এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ তৈরি ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

 

আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর ডা. মামুনুর রশীদ, প্রিন্সিপাল, কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ (CBMC)। তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এনেস্থেসিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এই পেশায় তরুণদের আগ্রহী করতে হলে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পরিবেশ আরও আধুনিক করতে হবে।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর ডা. মোঃ মতিউর রহমান, ভাইস প্রিন্সিপাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ। তিনি বলেন, এনেস্থেসিয়া ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা কল্পনাও করা যায় না। অথচ সমাজে তাদের অবদান সেভাবে স্বীকৃতি পায় না। এই দিবসের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে বলে আশা করি।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর ডা. এম করিম খান, পরিচালক, CBMC। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের জন্য এনেস্থেসিয়ার উন্নয়ন একান্ত প্রয়োজন। এই খাতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

 

এ সময় উপস্থিত অন্যান্য সম্মানিত অতিথিরা ছিলেন, প্রফেসর ডা. তানভির আহমেদ, অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান, ইএনটি, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুর রহমান, ডা. দিলীপ কান্তি বিশ্বাস, সাবেক সভাপতি, বিএনএম-সিসিপিপি, ডা. জাকির হোসেন জিকু, ডা. আল্লামা ইকবাল।

 

অনুষ্ঠানে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও ধন্যবাদ দেন ডা. আব্দুল্লাহ আল কারিম এবং ব্রেক্সিমকোর ম্যানেজার আতাউল গনি। সার্বিকভাবে অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন ডা. মোহাম্মদ ইসহাক।

 

এনেস্থেসিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে এনেস্থেসিয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। চিকিৎসাক্ষেত্রে এই ‘নীরব যোদ্ধা’দের অবদান যেন দেশজুড়ে স্বীকৃতি পায়, এমনটাই প্রত্যাশা করেন বক্তারা।

বগুড়ার মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের দখলে

ময়মনসিংহে ১৭৯তম বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পাসের হার কমলেও সাফল্যের শীর্ষে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ শিক্ষার্থী

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়া জেলায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। জেলার মোট ১ হাজার ৩০৯ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪৭ জনই এ কলেজের। অর্থাৎ জেলার মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৫৭ শতাংশ অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

সার্বিক ফলাফলে বিপর্যয়ের মধ্যেও এমন সাফল্য সরকারি আজিজুল হক কলেজকে জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।

 

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ জন শিক্ষার্থী।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম ফলাফল সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করা এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

 

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল

 

বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাসের হারে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

 

মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

 

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন।

 

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।

 

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৩৬ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। অন্যদিকে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন।

 

বগুড়া সরকারি কলেজের পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন শিক্ষার্থী।

 

দুই সরকারি কলেজে তুলনামূলক কম ফলাফল

 

জেলার অন্য দুটি বড় সরকারি কলেজের ফলাফলে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

 

অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন শিক্ষার্থী।

 

পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি

 

এবার বগুড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব

 

ফলাফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও সরকারি আজিজুল হক কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য বগুড়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। জেলার মোট জিপিএ-৫-এর অর্ধেকেরও বেশি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিজেদের সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছে।

 

সার্বিকভাবে বগুড়ার এইচএসসি ফলাফলে একদিকে যেমন পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে, অন্যদিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজের উল্লেখযোগ্য সাফল্য জেলার শিক্ষাঙ্গনে আশার আলো দেখিয়েছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুলবাড়ীয়ায় যুবদলের স্মরণকালের বৃহৎ শোভাযাত্রা, নেতাকর্মীদের ঢল

ময়মনসিংহে ১৭৯তম বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আকাশজুড়ে বৃষ্টি, থেমে থেমে বর্ষণ তবুও থেমে থাকেনি যুবদলের নেতাকর্মীদের পদযাত্রা। বৃষ্টি-বাদল মাথায় নিয়ে হাজারো নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ফুলবাড়ীয়ায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ শোভাযাত্রা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে সদরের কেআই সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইমরুল কায়েস এলিস।

শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পৌর বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় বৃষ্টির মধ্যেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বৃষ্টির কারণে অনেকেই যখন ঘরের বাইরে বের হতে দ্বিধা করছিলেন, তখন যুবদলের নেতাকর্মীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে পৌর বাজারের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৃষ্টিতে ভিজেও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও সাংগঠনিক উপস্থিতি পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শোভাযাত্রাটি ভালুকজান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সরকার, পৌর যুবদলের আকরাম শিকদার, আঃ লতিফ মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা আজিজ, রিপন, আকরাম, হুমায়ুন কবির ও আরজু। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজিএম ফাহাদ, শহিদুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রোমান মিয়া, মো. রাশেদ, মোঃ মোবারক মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রা শেষে ইমরুল কায়েস এলিস বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জননেতা আব্দুল করিম সরকারের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আজকের এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করেছে, প্রতিকূল আবহাওয়াও যুবদলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ঐক্য ও মনোবলকে দমিয়ে রাখতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, যুবদল শুধু রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেই নয়, মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকতে চায়। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন আগামী দিনে ফুলবাড়ীয়া যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলবাড়ীয়ায় বৃদ্ধা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা হযরত আলীকে বহিষ্কার 

ময়মনসিংহে ১৭৯তম বিশ্ব এনেস্থেসিয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পুটিজানা ইউনিয়নে কারাবন্দী স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাসে এক  বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

 

 

ভুক্তভোগী নারী বৈলাজান গ্রামের সেনেটারী মিস্ত্রি  দুলাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি অতীতে ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

 

মামলা সুত্রে পুলিশ জানায়, মারামারির একটি মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী কারাগারে যান। হযরত আলী বৃদ্ধা মহিলার স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে একাধিক বার তার বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। এক পর্যায়ে সেই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন লম্পট যুবদল নেতা। নারী রাজি না হওয়ায় জোর করে ঝাপিয়ে পড়েন তার উপর। এ ধরনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২০ অক্টোবর সকালে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় হযরত আলী মন্ডল। পরে তিনি ফুলবাড়ীয়া থানায় সেই ব্যক্তির নামে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

 

 

ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিরক্ত করে আসছিলো এবং সম্প্রতি ধর্ষণের চেষ্টাও করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

 

 

এই বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ভিডিওতে বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে, এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। মামলার পর থেকে হযরত আলী পলাতক রয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

এই বিষয় জানতে অভিযুক্ত হযরত আলীকে কল দেওয়া হলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ভিডিও ভাইরালের খবরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ  বলেন, দলীয় নীতি, আদর্শ পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় পুটিজানা ইউনিয়নের হযরত আলী মন্ডলকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি জনাব রিয়াজুল কবির মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিদারুল ইসলাম খান রাজু এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। যুবদলের সকল নেতাকর্মীদের হযরত আলীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।

×