ঝিনাইগাতীতে আমন ধানে পোকার আক্রমণ, ক্ষতির শঙ্কায় কৃষকেরা!
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় আমন ধানে অস্বাভাবিক হারে পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
শেরপুর জেলার উপজেলাজুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ ধান ক্ষেতের পাতা হলুদ হয়ে ঝলসে যাওয়ার ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলায় আমন ধানের আবাদ হয়েছে ১৪৬৬০ হেক্টর। সরেজমিনে মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, বহু এলাকায় পাতা মোড়ানো পোকা এবং ঝলসানো পোকা ধানের গাছের কচি অংশ নষ্ট করছে, ফলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানান কৃষকেরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার খৈলকুড়া, রামনগর,বন্ধভাটপাড়া,দিঘীরপাড়, মাটিয়াপাড়া,আহমদ নগর, গ্রামজুড়ে আক্রান্ত জমির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই।
এসব এলাকার অধিকাংশ কৃষকই জানান, গত সপ্তাহ থেকেই পাতা মোড়ানো ও গাছ শুকিয়ে ফেলার পোকা ধানের গাছে আক্রমণ শুরু করেছে। বিশেষত উঁচু জমির ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। খৈলকুড়া গ্রামের কৃষক আশকর আলী বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তার জমির একটি অংশ ঝলসে গেছে। তিনি বলেন অন্য ধানের ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে কিন্তু বিশেষ করে তুলশী মালা ধানের ‘পাতা আগে হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, পরে শিষ নষ্ট হচ্ছে। ওষুধ দিয়েছি, কিন্তু তেমন কোনো ফল পাচ্ছি না।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে মৌসুমের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার এলাকার কৃষক আকবর আলী জানান, এলাকাজুড়ে প্রায় সব ক্ষেতেই পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। নিয়মিত ওষুধ দিচ্ছি, তাও পোকা কমছে না। এভাবে চলতে থাকলে ধান ঘরে তোলা কঠিন হবে। মালেক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে এলে সঠিক পরামর্শ পাওয়া যেত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আক্রান্ত গাছের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আমন ধানে পোকার আক্রমণের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারা বলেন, মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তন, উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে পোকা দেখা দিতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।’
তারা আরও বলেন, আক্রান্ত গাছ চিহ্নিত হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করা, আক্রান্ত পাতা হাতে না ধরা এবং আক্রান্ত গাছ পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। কৃষকদের যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা কৃষি দপ্তরে যোগাযোগের আহ্বান জানান তারা। স্থানীয় কৃষকেরা দ্রুত মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে সক্রিয় এবং কীটনাশক ও পরামর্শে বিশেষ সহায়তা প্রদানের দাবি করেছেন। তারা বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় আমন মৌসুম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


















