সম্মান ও মর্যাদা লাভের মাধ্যম l মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ
Oplus_131072
হযরত ইমাম মালিক (রহ.) বর্ণনা করেন—
তার কাছে এ খবর পৌঁছেছে যে, একবার হাকিম লুকমান (আঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়:
‘আপনাকে কোন জিনিস এমন মর্যাদার উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে?’ হাকিম লুকমান (আ.) উত্তর দিলেন-
‘সত্য কথা বলা, আমানত আদায় করা এবং প্রয়োজনীয় নয় এমন বিষয়কে পরিহার করা।’
— মুয়াত্তা ইমাম মালিক (হাদীস: ১৮১৪)
ব্যাখ্যা: হযরত লুকমান (আ.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে যে সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন, তা মূলত তিনটি গুণের কারণে:
১. আমি সবসময় সত্য বলি।
২. আমি মানুষের আমানত পূর্ণভাবে আদায় করি।
৩. আমি অপ্রয়োজনীয়, ফালতু এবং প্রয়োজনীয় নয় এমন বিষয় থেকে দূরে থাকি।
একজন মু’মিনের ঈমানের আলো এবং তার আমলের প্রকাশ, ভালো আখলাক বা চরিত্রে ফুটে ওঠে। এই তিনটি গুণ উত্তম চরিত্র গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. সত্যবাদিতা:
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেছেন: ‘তোমরা সত্যবাদীদের সঙ্গী হও’ — (সূরা তাওবা: ১১৯)
সত্যবাদিতা শুধু চারিত্রিক সৌন্দর্য নয়, বরং এটি সমাজে বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা গঠনের মূল স্তম্ভ। এর বিপরীতে মিথ্যা নানা বিপর্যয়ের মূল উৎস।
২. আমানত আদায় করা:
আমানত বলতে বোঝায়—কারো দায়িত্ব, সম্পদ বা গোপন তথ্য, যেটি রক্ষা করার দায়িত্ব অন্য কারো উপর অর্পিত হয়েছে। তা হতে পারে সম্পদ, কারো সম্মান রক্ষা, কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা অথবা ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্য দেওয়া।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
‘যার মধ্যে আমানতদারি নেই, তার মধ্যে ঈমানও নেই।’ — (মিশকাত, হাদীস: ৩৫)
আমানত রক্ষা করা এবং যথাসময়ে তা আদায় করা হলো আমানতদারির পরিচয়; আর তা না করাকে বলা হয় ‘খিয়ানত’।
৩. লা-ইয়ানি (অপ্রয়োজনীয়) বিষয় বর্জন:
যেসব কাজ বা কথা, না দুনিয়াতে কোনো উপকার আনে, না আখিরাতে কোনো সওয়াব, সেসবকেই বলা হয় লা-ইয়ানি বা অপ্রয়োজনীয়। যেমন: অযথা ও কুরুচিপূর্ণ আলোচনা, দরকারহীন খেলা, যা শুধু সময় নষ্ট করে, এমন আড্ডা বা মজলিস, যেখান থেকে দ্বীন বা দুনিয়া—কোনো উপকারই পাওয়া যায় না, এসব কিছুই লা-ইয়ানির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
‘মু’মিনের ঈমানের পরিপক্বতার লক্ষণ হলো— সে লা-ইয়ানি (অপ্রয়োজনীয়) বিষয় পরিত্যাগ করে।’ — (তিরমিযী)
তবে এমন কিছু কাজ যেগুলোতে উপার্জনের সুযোগ থাকে, জীবিকা নির্বাহ সম্ভব হয় বা সমাজ-সংসারে প্রয়োজনে সাহায্য করে—সেসব বৈধ ও জরুরি কাজ ‘লা-ইয়ানি’ নয়। বরং এগুলোর প্রতি সময় দেওয়াই প্রয়োজন।
হযরত লুকমান (আ.) যেসব গুণের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন— সত্যবাদিতা, আমানত রক্ষা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় বর্জন— এসবই একজন ব্যক্তিকে আল্লাহর নিকট ও মানুষের দৃষ্টিতে সম্মান ও মর্যাদার আসনে উন্নীত করে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এ গুণাবলি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমীন।

| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


















