| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

শেরপুরে ‘নার্স-দালাল চক্রের’ ফাঁদে প্রাণ গেল গৃহবধূর 

শেরপুরে ‘নার্স-দালাল চক্রের’ ফাঁদে প্রাণ গেল গৃহবধূর 

শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক গৃহবধূকে ভুল বুঝিয়ে বের করে নিয়ে নার্সের বাসায় গোপনে ডিএনসি করানোর পর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই গৃহবধূর নাম লাভনী আক্তার (২৬)।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত লাভনী আক্তার কসবা এলাকার বাসিন্দা সাইদুর রহমানের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি স্বামীর সঙ্গে শহরের কসবা কাঠঘর এলাকায় বসবাস করতেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থ অবস্থায় লাভনীকে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে নার্স চম্পা ও দালাল মহসিনের প্ররোচনায় হাসপাতালের বিপরীতে একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডিএনসি করানোর পর তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

 

লাভনীর স্বামী ফল ব্যবসায়ী সাইদুল বলেন, ‘মহসিন নামের একজন বলল, ওখানে সুবিধা আছে, রক্ত ছাড়াও চম্পা নামের নার্স ডিএনসি করতে পারে। রাতে তাকে ফোন দিলে সে বলে চম্পা নার্স আছে, উনার মাধ্যমে করলে ভালো হবে। পরে সকালবেলা হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়ে বাসায় ডিএনসি করে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনসি করার পর আমি জিজ্ঞেস করি রক্ত লাগবে কি না, তিনি বলেন রক্ত লাগে না। পরে কিছু ওষুধ লিখে দেন। ৬ হাজার টাকা নেয়। মহসিন বলেছিল উনি বেশি টাকা নেন না। আমি কিছু বলিনি।’

 

ক্ষোভ প্রকাশ করে সাইদুল অভিযোগ করেন, ‘একটা ওষুধ পাইনি, ফোন দিলে বলেন অন্য গ্রুপের নিলেও সমস্যা নেই। কিন্তু রক্ত অনেক কমে গিয়েছিল। স্যালাইনও ঠিকভাবে দিতে পারিনি। পরে বাসায় নিয়ে যাই। বিকেলে অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে আনার পথে আমার স্ত্রী মারা যায়।’

 

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. নাবিদ আনজুম সিয়াম বলেন, ‘আমরা যখন রোগীটিকে পাই, তখন তার শরীরে জীবনের কোনো আলামত ছিল না। সম্ভবত হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, স্বজনদের কাছ থেকে তারা জেনেছেন, আগের রাতে রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সকালে গাইনি বিশেষজ্ঞ দেখানোর আগেই তারা রোগীকে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালেরই একজন নার্সের বাসায় নিয়ে গিয়ে ডিএনসি করা হয়। এরপর রোগীকে তার বাসায় নেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে পুনরায় হাসপাতালে আনা হয়।

 

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) তাহেরাতুল আশরাফি বলেন, ‘ডিএনসি বাইরে হয়েছে। এটার সঙ্গে হাসপাতালের কোনো সম্পর্ক নেই। রোগীকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।’ নার্স চম্পার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নার্স জড়িত কি না, সেটি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘একজন রোগীকে নার্স চম্পার বাসায় নিয়ে ডিএনসি করানো হয় বলে আমরা জেনেছি। এরপর রোগীর অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

এ ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় স্বজনদের কান্না ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দায় এবং কথিত দালাল চক্রের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

শেরপুরে ‘নার্স-দালাল চক্রের’ ফাঁদে প্রাণ গেল গৃহবধূর 

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

শেরপুরে ‘নার্স-দালাল চক্রের’ ফাঁদে প্রাণ গেল গৃহবধূর 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

শেরপুরে ‘নার্স-দালাল চক্রের’ ফাঁদে প্রাণ গেল গৃহবধূর 

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×