| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

আমি স্কুল জীবনে, ক্লাশ থ্রীতে পড়ার সময় থেকেই স্কুলের পাঠ্য বই পড়ার পাশাপাশি বাইরের বই পড়া শুরু করেছি। সেই কিশোর বেলায় থাকতেই আমার প্রচুর বই পড়া শেষ হয়ে গেছে।

 

ছোটোবেলায় আমাকে বই কিনে কিনে পড়তে হতো না। আমাদের ঘরেই ছিলো অসংখ্য বই। সেগুলিই পড়তাম মনোযোগ দিয়ে।

 

ক্লাশ ফাইভ শেষ করে যখন হাই স্কুলে ক্লাশ সিক্সে ভর্তি হলাম তখন পেয়ে গেলাম বিপুল বইয়ের সমাহার স্কুলের সমৃদ্ধ লাইব্রেরি।

 

হাই স্কুলে গিয়ে হাতে পেলাম কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্রভৃতি লেখকের কারো কারো কিছু বই এবং কারো কারো সমস্ত বই।

 

এই সব বই পড়তে পড়তে আমার মনে একটা ধারণার জন্ম হলো যে, আমাদের দেশের আলেম সমাজ কোনো সাহিত্য চর্চা করে না। কোনো সাধারণ সাহিত্যের বই লেখে না। অর্থাৎ আমাদের বাংলা ভাষার জেনারেল সাহিত্যে কোনো হযরত মাওলানার পদচারণা নাই।

 

আরো উপরের ক্লাশে গিয়ে পড়লাম ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, ফররুখ আহমদ, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ টুপি-দাড়ি ওয়ালাদের লেখা। মনে করলাম আমার ধারণা ভুল। হুজুরগণও লেখালেখি করেন। এই তো হুজুরদের দেখা পেয়ে গেলাম।

 

কিন্তু এদের পরিচিতি পাঠ করে জানতে পারলাম যে, এরা আলেম নন। এরা ধার্মিক। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উচ্চ মাপের ইসলামি জ্ঞান সম্পন্ন বুদ্ধিজীবী। খাঁটি ইমানদার মানুষ। কিন্তু আলেম বা হুজুর নন।

 

আমার আশা ভঙ্গ হলো। আবার ভাবতে থাকলাম, তাহলে আলেমগণ সাহিত্য চর্চায় আসে না। সাহিত্য রচনায় তাদের আগ্রহ নাই। হয়তো সাহিত্য চর্চাকে তারা নিষিদ্ধ মনে করেন। কিংবা সাহিত্য চর্চাতে তারা উৎসাহ বা উদ্দম পান না।

 

কাজেই আমি ধরে নিলাম যে সাহিত্য নিয়ে নাড়াচাড়া করা আলেমদের কাজ নয়। তাদের মূল দায়িত্ব কোরআন হাদীস নিয়ে কাজ করা। সেগুলো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা। মসজিদে ঈমামতি করা, ওয়াজ নসিহত করা।

 

কিন্তু আমার এই ‘ধরে নেওয়াটা’ ভুল প্রমাণিত হলো কয়েকজন আলেমের সাথে পরিচিত হয়ে এবং তাদের সাহিত্যের সন্ধান পেয়ে।

 

সাহিত্যচর্চা এবং সাহিত্য সংগঠন করতে এসে মুষ্টিমেয় যে কয়েকজন আলেমের সাথে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা স্থাপিত হলো তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, হযরত মাওলানা মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ হাফিজাহুল্লাহ।

 

একটা সাহিত্য সংগঠনের সভায় তার সাথে আমার প্রথম পরিচয় এবং ঘনিষ্টতা। উঁচায় লম্বায় ভরাট স্বাস্থের অধিকারী, শক্তসামর্থ অমায়িক মানুষ তিনি। নিরহংকার, বিনয়ী, বুদ্ধিদীপ্ত সহজ সরল চেহারা তার।

 

তিনি একাধারে মাওলানা, মুফতি, মুহাদ্দিস, শিক্ষক, কবি, ছড়াকার, গীতিকার ও কথা সাহিত্যিক। একই সাথে অনেক গুণের অধিকারি।

 

মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ ১৯৯০ সনের ২০ নভেম্বর শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার মাটিয়াকুড়া গ্রামের এক সবুজ শ্যামল স্নিগ্ধ পরিবেশে এবং এক ঈমানদীপ্ত শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব মফিজ উদ্দীন সরকার, একজন সরকারি চাকরিজীবী এবং মাতা নূরজাহান বেগম নূরেজা একজন স্বর্ণগর্ভা ঈমানদার বুদ্ধিমতী মহিলা।

 

প্রকৃতির অবারিত জান্নাতি পরিবেশে, যোগ্য মায়ের সতর্ক তত্বাবধানে তিনি ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠেন। অতঃপর যথা সময়ে তার পড়াশোনা শুরু হয়।

 

তিনি কওমী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন এবং দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ইসলামি লাইনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমীর আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) তার প্রত্যক্ষ উস্তাদ। তিনি তাঁর কাছে হাদিস অধ্যয়ণের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক দীক্ষাও গ্রহণ করেছেন। তার শিক্ষক ও মুর্শিদ আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) তার আধ্যাত্মিক সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে, তাকে চার তরিকার বায়আত গ্রহণ করার ইজাযত প্রদান করেন।

 

নূরুল ইসলাম নাযীফ ছোটোবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চা করে আসছেন।

 

তার সাহিত্যের মূল লক্ষ্যই হলো ইসলামি আমল আখলাক, আল্লাহর একত্ববাদ, এবং বৈচিত্র্যময় সৃষ্টজগতে আল্লাহর অপার মহিমাকে চিত্তাকর্ষক রূপে প্রকাশ করা।

 

ভাবগাম্ভীর্যময় শব্দদ্যোতনার মাধ্যমে, শিশুকিশোরসহ, সমাজের সকল স্তরের মানুষের অন্তরে জান্নাতি আলোরণ সৃষ্টি করাই তার সাহিত্যচর্চার মূল লক্ষ্য।

 

তিনি প্রচুর ছড়া, কবিতা এবং শিশুদের উপযোগী গল্প লিখে চলেছেন অনর্গল। তাছাড়া আরবি, ফারসি এবং উর্দু থেকে অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত লেখকদের লেখা তিনি অনুবাদ করেছেন। তার লেখা গীতিকবিতা ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পীদের কণ্ঠে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। ইতোমধ্যে তার ছড়া-কবিতা একাধিক শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে।

 

তার লেখা দেশবিদেশের বিভিন্ন দৈনিক সাপ্তাহিক এবং মাসিক পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

 

বর্তমান পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৯টি।এগুলি হলোঃ- ১) অনবদ্য ছড়াপদ্য, ২) মনের পাতায় আঁকা ছবি, ৩) চার বছরের বুড়ো, ৪) বাংলার ছড়া, ৫) রহমাতুল্লিল আলামিন, ৬) সহজ উলূমুল হাদিস,৭) আশিকের ফরিয়াদ, ৮) সাকীয়ে কাওসার এবং ৯) মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়।

 

এগুলো ছাড়া তার আরও প্রায় চল্লিশোর্ধ্ব পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত আছে।

 

তিনি আমাদের শেরপুরের গর্ব। আমি তার নিরঙ্কুশ নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

 

নূরুল ইসলাম মনি

লেখক: কবি ও ছড়াকার।

—————————————-

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

নূরুল ইসলাম নাযীফ ‘আত্মশুদ্ধির কবি’

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×