| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

নালিতাবাড়ীতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অভিযোগ

নালিতাবাড়ীতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অভিযোগ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কয়রাকুড়ি গ্রামে গত ৭ জুলাই চুরির ঘটনা ঘটেছে।

 

খলিলুর রহমান নামে এক অটোরিকশা চালকের বাড়িতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরির ঘটনায় সোহান (১৯) নামে এক আত্মস্বীকৃত যুবককে বাঁচাতে চেষ্টা করেছে স্থানীয় একটি চক্র। এ ঘটনায় ওই যুবককে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে চক্রটি। যুবককে দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে একই এলাকার মুক্তার হোসেন নামে অপর এক স্যানিটারি মিস্ত্রিকে।

 

সরেজমিনে গেলে স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ জুলাই বিকেলে ওই গ্রামের অটোরিকশা চালক খলিলুর রহমান সপরিবারে পার্শ্ববর্তী ভটপুর গ্রামের আত্মীয় বাড়িতে ঘুরতে যান। পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের ভেতরে থাকা প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ারের তালা খোলে কে বা কারা নগদ ২০ হাজার টাকা ও ৮ আনা পরিমাণের কিছু স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেছে। পরে তিনি ঘটনাটি আশপাশের অনেককে জানিয়ে রাখেন।

 

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কানাঘোঁষা শুরু হলে একপর্যায়ে একই এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে সোহান স্থানীয়দের সাথে চুরি করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। তার স্বীকারোক্তি মতো নানা স্থানে প্রথমে স্বর্ণালঙ্কার পরে বিক্রিত টাকা খোঁজে ব্যর্থ হন স্থানীয় বিচারকগণ। একপর্যায়ে রাকিব নামে এক যুবকের সম্পৃক্ততার কথা বলে সে। পরে ওই ঘটনায় রাকিবের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মিললে রাকিবকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোহান এর কিছু দিন পর বয়ান পাল্টে তারই উস্তাদ স্যানিটারি মিস্ত্রি মুক্তারের নাম বলে। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি চক্র মুক্তারকে চুরিকৃত টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত অন্যথায় ক্ষতিপূরণ দিতে চাপ প্রয়োগ করে। এতে মুক্তার অস্বীকৃতি জানালে তারা জোটবদ্ধ হয়। এই জেরে মুক্তার ও খলিল এ দুই পরিবারের মাঝে গত ১৭ জুলাই ঝগড়া বাধলে খলিল তার বাড়িতে মুক্তারের মা রহিমা বেগম ও খালা ফরিদা বেগমকে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে বিষয়টি আরো বড় হতে থাকলে মুক্তার বাদী হয়ে খলিলদের বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে খলিলও বাদী হয়ে মুক্তার ও সোহানের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে অভিযোগ দায়ের করেন। এভাবে চুরির ঘটনা বড় আকার ধারণ করে। বর্তমানে স্থানীয় একটি চক্র জোটবদ্ধ হয়ে মুক্তারকে চোর সাব্যস্ত করে ক্ষতিপূরণের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে। অন্যথায় মামলা পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিতে খলিলের কাছ থেকে অনেক টাকা ইতিমধ্যেই তারা খসিয়ে নিয়েছে। সোহানকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। যাতে করে, কোথাও প্রকৃত সত্য উন্মোচিত না হয়। সোহানও তাদের কথামতো এখন প্রতিবারই মুক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে স্বীকারোক্তি দিচ্ছে। ফলে প্রকৃত চোর কে এবং কাউকে ফাঁসানো হচ্ছে কি না, এ নিয়ে ধোয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী খলিল জানান, আমার বাড়িতে চুরির পর এ নিয়ে প্রথমে কোথাও অভিযোগ দেইনি, কাউকে বলিওনি। আমি কাউকে সন্দেহও করতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে সোহানের মায়ের সূত্র ধরে ঘটনা প্রকাশ পায়। তবে সোহান প্রথমে নিজেকে জড়িত বলে স্বীকার করে তার সাথে রাকিব ও পরে মুক্তারের নাম বলেছে।

মুক্তার হোসেন জানান, আমার আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল দেখে আমাকে ফাঁসানোর জন্য স্থানীয় একটি চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। তারা সোহানকে দায়মুক্তি দিয়ে আমার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করছে। আমি কেন চোরের অপবাদ নেব?

 

এলাকাবাসী জানান, মুক্তারের বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ কখনো শোনিনি। আমাদের জানামতে, সে ভালো মানুষ। কিন্তু সোহান একেক সময় একেক কথা বলে শেষ পর্যন্ত মুক্তারকে দায়ী করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

নালিতাবাড়ীতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অভিযোগ

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

নালিতাবাড়ীতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অভিযোগ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

নালিতাবাড়ীতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের অভিযোগ

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×