| ১ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

নেকি ও পাপের পরিচয় l মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

নেকি ও পাপের পরিচয় l মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

নেকি ও পাপের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা

 

মানুষের জীবনের সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল চাবিকাঠি হলো নেকি ও পাপের সঠিক পরিচয়। কোনটি ভালো আর কোনটি মন্দ— এই বোধ যদি মানুষের অন্তরে সুস্পষ্ট না থাকে, তবে তার জীবন পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। ইসলাম মানুষের সামনে নেকি ও পাপের সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে সে সত্যের পথে চলতে পারে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারে।

 

 

হাদিসের আলোকে নেকির প্রকৃত সংজ্ঞা

 

হযরত নাওয়াস ইবনে সামআন (রাযি.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, আমি এক বছর ধরে মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর সঙ্গে অবস্থান করি। একদিন আমি তাঁর কাছে নেকি ও গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, “নেকি হলো উত্তম চরিত্র, আর গুনাহ হলো সেই কাজ, যা করলে মানুষের অন্তরে খটকা লাগে এবং সে চায় না যে মানুষ তা জেনে ফেলুক।” – মুসলিম শরীফ , হাদিস নম্বর: ৬৫১৭

 

এই হাদিস আমাদের জানিয়ে দেয় যে নেকি শুধু বাহ্যিক ইবাদতের নাম নয়; বরং মানুষের চরিত্র ও অন্তরের অবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

 

 

শরিয়তের দৃষ্টিতে নেকি ও গুনাহের মানদণ্ড

 

ইসলামী শরীয়তে নেকি ও গুনাহ নির্ধারণের মূলনীতি হলো— যে কাজ আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর নির্দেশ অনুযায়ী হয়, সেটাই নেকি; আর যা এর বিরোধী হয়, সেটাই গুনাহ।

 

 

ইবাদতের মধ্যেও বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তা

 

যেসব কাজ নিজেই ইবাদত, সেগুলোও যদি শরীয়তের বিধানের বাইরে করা হয়, তবে তা নেকির পরিবর্তে গুনাহে পরিণত হয়। যেমন— নামাজ একটি মহান ইবাদত, কিন্তু সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামাজ পড়া মাকরূহ। একইভাবে রোজা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হলেও ঈদের দিন তা রাখা নিষিদ্ধ। এতে বোঝা যায়, নেকি কেবল কাজের নাম নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলাই নেকি।

 

 

উত্তম চরিত্র: ইসলামের মৌলিক শিক্ষা

 

আল্লাহ তাআলা ইসলাম ধর্মের মাধ্যমে মানুষের চরিত্রকে সুন্দর করার শিক্ষা দিয়েছেন। উত্তম চরিত্র বা হুসনে আখলাক ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। মানুষের সঙ্গে ভদ্রতা, নম্রতা ও সদাচরণ একটি বড় নেকি।

 

 

হুসনে আখলাকের উপাদানসমূহ

 

আল্লামা খাজিন (রহ.) হুসনে আখলাকের উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন— মানুষের প্রতি ভালোবাসা, লেনদেনে সততা, দানশীলতা, আপন-পর নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক, কৃপণতা ও লোভ পরিহার, কষ্টে ধৈর্য ধারণ এবং শালীনতা ও সম্মানের বিধান মেনে চলা।

 

 

উত্তম ও মন্দ চরিত্রের ফলাফল

 

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) বলেন, “উত্তম চরিত্রের ফল হলো হৃদয়ের বন্ধন ও পারস্পরিক ভালোবাসা, আর মন্দ চরিত্রের ফল হলো বিচ্ছিন্নতা ও হৃদয়ের দূরত্ব।” বাস্তব জীবনেও আমরা দেখি— ভালো চরিত্র মানুষকে সম্মানিত করে, আর মন্দ চরিত্র ঘৃণিত ও একাকী করে তোলে।

 

 

নেকি মানুষের উপকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত

 

নেকি সেই কাজ, যার দ্বারা মানুষ ও সমাজ উপকৃত হয়। মানুষ স্বভাবগতভাবেই উপকারী কাজকে ভালোবাসে। তাই সৎকর্ম মানুষকে প্রশান্তি দেয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।

 

 

গুনাহের অন্তরগত পরিচয় ও লজ্জাবোধ

 

গুনাহ এমন কাজ, যা করার পর মানুষের মনে অপরাধবোধ ও লজ্জা সৃষ্টি হয়। সে তখন নিজের কাজ গোপন করতে চায়। এই অন্তরের অস্বস্তিই গুনাহের প্রকৃত পরিচয়।

 

 

সুস্থ হৃদয় ও অসুস্থ হৃদয়ের পার্থক্য

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে হৃদয়ের কথা বলেছেন, তা হলো ক্বলবে সালিম বা সুস্থ হৃদয়। অসুস্থ হৃদয় নেকি ও গুনাহের পার্থক্য বুঝতে পারে না। যেমন— অসুস্থ জিহ্বা মিষ্টিকে তিতা মনে করে, তেমনি অসুস্থ হৃদয় গুনাহকেও স্বাভাবিক মনে করে।

 

 

অভ্যাস কীভাবে গুনাহকে সহজ করে তোলে

 

মানুষ যখন বারবার গুনাহ করে, তখন একসময় তার বিবেক নিস্তেজ হয়ে যায়। তখন গুনাহ আর তার কাছে গুনাহ মনে হয় না। এভাবেই হৃদয় ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

 

ঘুষের উদাহরণে গুনাহবোধের বাস্তব চিত্র

 

একজন ব্যক্তি, যে কখনো ঘুষ নেয়নি, তাকে জোর করে ঘুষ দিলে তার হাত কাঁপে, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, কপালে ঘাম ওঠে এবং সে ভয়ে চারদিকে তাকায়। এগুলো প্রমাণ করে তার অন্তর এখনো জীবিত। কিন্তু ঘুষে অভ্যস্ত ব্যক্তি এসব কিছুই অনুভব করে না।

 

 

গুনাহ থেকে বাঁচার কার্যকর উপায়: তাওবা ও ইস্তেগফার

 

হৃদয় সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো— কোনো গুনাহে অভ্যস্ত না হওয়া। যদি ভুলবশত গুনাহ হয়ে যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে তাওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে।

 

 

হৃদয় সুস্থ রাখার গুরুত্ব

 

সুস্থ হৃদয়ই মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এই হৃদয়ই নেকি ও পাপের পার্থক্য বুঝিয়ে দেয় এবং মানুষকে আত্মশুদ্ধির দিকে নিয়ে যায়।

 

পরিশেষে বলা যায়, নেকি ও পাপের প্রকৃত পরিচয় জানা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনাই একজন মুমিনের প্রকৃত সাফল্য। উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উত্তম চরিত্রে ভূষিত করুন, গুনাহ থেকে দূরে রাখুন এবং একটি ক্বলবে সালিম বা সুস্থ হৃদয় দান করুন। আমিন।

 

লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়াতুশ শায়খ আহমদ শফী রহ., মাটিয়াকুড়া, শ্রীবরদী, শেরপুর।

বগুড়ার মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের দখলে

নেকি ও পাপের পরিচয় l মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

পাসের হার কমলেও সাফল্যের শীর্ষে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ শিক্ষার্থী

 

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বগুড়া জেলায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমলেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। জেলার মোট ১ হাজার ৩০৯ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪৭ জনই এ কলেজের। অর্থাৎ জেলার মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৫৭ শতাংশ অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

সার্বিক ফলাফলে বিপর্যয়ের মধ্যেও এমন সাফল্য সরকারি আজিজুল হক কলেজকে জেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।

 

বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। কলেজটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ ছাড়া জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭৪৭ জন শিক্ষার্থী।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম ফলাফল সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আরও ভালো ফলাফলের আশা করেছিলাম। তবে সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে যা হয়েছে, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করা এবং অর্জিত ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

 

অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল

 

বগুড়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পাসের হারে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে। এর মধ্যে মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএএফ শাহীন কলেজ শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

 

মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।

 

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন।

 

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬৫৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।

 

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৩৬ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। অন্যদিকে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন।

 

বগুড়া সরকারি কলেজের পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন শিক্ষার্থী।

 

দুই সরকারি কলেজে তুলনামূলক কম ফলাফল

 

জেলার অন্য দুটি বড় সরকারি কলেজের ফলাফলে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

 

অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন শিক্ষার্থী।

 

পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেননি

 

এবার বগুড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

প্রকৃত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব

 

ফলাফল বিপর্যয় প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগী হয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা উচিত।

 

তিনি আরও বলেন, বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হলেও সরকারি আজিজুল হক কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য বগুড়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। জেলার মোট জিপিএ-৫-এর অর্ধেকেরও বেশি অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিজেদের সাফল্যের প্রমাণ দিয়েছে।

 

সার্বিকভাবে বগুড়ার এইচএসসি ফলাফলে একদিকে যেমন পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে, অন্যদিকে সরকারি আজিজুল হক কলেজের উল্লেখযোগ্য সাফল্য জেলার শিক্ষাঙ্গনে আশার আলো দেখিয়েছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুলবাড়ীয়ায় যুবদলের স্মরণকালের বৃহৎ শোভাযাত্রা, নেতাকর্মীদের ঢল

নেকি ও পাপের পরিচয় l মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

আকাশজুড়ে বৃষ্টি, থেমে থেমে বর্ষণ তবুও থেমে থাকেনি যুবদলের নেতাকর্মীদের পদযাত্রা। বৃষ্টি-বাদল মাথায় নিয়ে হাজারো নেতাকর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ফুলবাড়ীয়ায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এটি স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ শোভাযাত্রা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে সদরের কেআই সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদপ্রার্থী ইমরুল কায়েস এলিস।

শোভাযাত্রাটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পৌর বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় বৃষ্টির মধ্যেও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বৃষ্টির কারণে অনেকেই যখন ঘরের বাইরে বের হতে দ্বিধা করছিলেন, তখন যুবদলের নেতাকর্মীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে পৌর বাজারের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৃষ্টিতে ভিজেও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস, স্লোগান ও সাংগঠনিক উপস্থিতি পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

শোভাযাত্রাটি ভালুকজান এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সরকার, পৌর যুবদলের আকরাম শিকদার, আঃ লতিফ মন্ডল, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা আজিজ, রিপন, আকরাম, হুমায়ুন কবির ও আরজু। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজিএম ফাহাদ, শহিদুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক রোমান মিয়া, মো. রাশেদ, মোঃ মোবারক মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শোভাযাত্রা শেষে ইমরুল কায়েস এলিস বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জননেতা আব্দুল করিম সরকারের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদল ঐক্যবদ্ধ। আজকের এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করেছে, প্রতিকূল আবহাওয়াও যুবদলের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক ঐক্য ও মনোবলকে দমিয়ে রাখতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, যুবদল শুধু রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামেই নয়, মানুষের সুখ-দুঃখেও পাশে থাকতে চায়। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন আগামী দিনে ফুলবাড়ীয়া যুবদলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুলবাড়ীয়ায় বৃদ্ধা নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবদল নেতা হযরত আলীকে বহিষ্কার 

নেকি ও পাপের পরিচয় l মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পুটিজানা ইউনিয়নে কারাবন্দী স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাসে এক  বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। মামলার বিষয়টি জানিয়েছেন ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

 

 

ভুক্তভোগী নারী বৈলাজান গ্রামের সেনেটারী মিস্ত্রি  দুলাল মিয়ার স্ত্রী। তিনি অতীতে ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

 

মামলা সুত্রে পুলিশ জানায়, মারামারির একটি মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর ওই নারীর স্বামী কারাগারে যান। হযরত আলী বৃদ্ধা মহিলার স্বামীকে ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে একাধিক বার তার বাড়িতে যাওয়া আসা করতো। এক পর্যায়ে সেই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন লম্পট যুবদল নেতা। নারী রাজি না হওয়ায় জোর করে ঝাপিয়ে পড়েন তার উপর। এ ধরনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২০ অক্টোবর সকালে তার বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টা চালায় হযরত আলী মন্ডল। পরে তিনি ফুলবাড়ীয়া থানায় সেই ব্যক্তির নামে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

 

 

ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিরক্ত করে আসছিলো এবং সম্প্রতি ধর্ষণের চেষ্টাও করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

 

 

এই বিষয়ে ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি, মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ভিডিওতে বৃদ্ধাকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়েছে, এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। মামলার পর থেকে হযরত আলী পলাতক রয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

 

এই বিষয় জানতে অভিযুক্ত হযরত আলীকে কল দেওয়া হলে তার ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

ভিডিও ভাইরালের খবরে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ  বলেন, দলীয় নীতি, আদর্শ পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় পুটিজানা ইউনিয়নের হযরত আলী মন্ডলকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি জনাব রিয়াজুল কবির মামুন ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিদারুল ইসলাম খান রাজু এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। যুবদলের সকল নেতাকর্মীদের হযরত আলীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ না রাখার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।

×