| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

‘মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়’ – ছড়া ও কিশোর কবিতার এক মনোরম ভুবন

‘মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়’ – ছড়া ও কিশোর কবিতার এক মনোরম ভুবন

নূরুল ইসলাম নাযীফ রচিত ‘মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়’ গ্রন্থটিতে একই সঙ্গে সময়, সমাজ, প্রকৃতি, অনুভূতি ও প্রকৃত জীবনবোধ লক্ষ্য করা যায়।

বইটিতে রয়েছে শেরপুর জেলার প্রকৃতি, পর্যটন, লোকজ আবহ, প্রভু-বন্দনা এবং শৈশব, কৈশোর ও সমসাময়িক দুরন্তপনায় ভরা নানা স্মৃতি ও ছন্দের মাধুর্য। গ্রন্থটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো- লেখক স্থানীয় ভূপ্রকৃতি ও পরিচিত পরিবেশকে ছড়ার বিষয়বস্তু করেছেন।

হারিয়াকোনা, পাহাড়-প্রকৃতি, মাঠ, গ্রামীণ জীবন ও মনের কৌতূহল- ছড়াগুলোকে প্রাণবন্ত করেছে। বইটি পড়লে শুধু ছড়া পড়া হয় না, বরং শৈশবের চিরচেনা পথে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি আসে।

 

কবি তাঁর এই বইয়ের প্রথম ছড়ায় মহান আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মনোনিবেশ করেছেন। পাহাড়, সাগর, আকাশ ও রাত্রির বিশালতা মেপে এগুলোর স্রষ্টা যে কত মহান, তা ছড়ার ছন্দে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

 

হারিয়াকোনার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাঁর স্মৃতির বর্ণনা করতে গিয়ে কবি বলেছেন-

 

“মনকে তখন যায় কি বোঝানো

দূরে কোথাও থাকি!

সত্যি বলছি মনটা আমার

যায় হয়ে এক পাখি।”

 

‘আমার জেলা’ নামক কবিতায় কবি শেরপুর জেলার সকল পর্যটনস্থলের কথা উল্লেখ করেছেন।

 

অন্য এক কবিতায় স্বাধীনভাবে শেখার ইচ্ছা প্রকাশ করতে গিয়ে কবি বলেছেন-

 

“মন বলে পড়া ছেড়ে মাঠপানে ছুটি,

হেসে-খেলে সারাদিন খাই লুটোপুটি।”

 

গ্রন্থের নামবস্তুর কবিতায় কবি বলেছেন-

 

“ইট-পাথরের নগরজীবনে

নিত্য সকল ক্ষণে,

মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়

মায়াবী আকর্ষণে।”

 

বইয়ের শেষ কবিতায় আবারও হারিয়াকোনায় যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে বইটির সমাপ্তি টেনেছেন।

 

উল্লেখ্য, ছড়ার মূলপ্রাণ হলো ছন্দ, অন্ত্যমিল ও শ্রুতিমাধুর্য। নূরুল ইসলাম নাযীফ ছন্দের নিয়ম-নীতি মেনে সহজ ভাষায় এমনই এক ছড়ার পরিবেশ এই বইয়ে তৈরি করেছেন, যা পাঠে মনকে আনন্দ দেয় এবং মনের কৌতূহলকে জাগ্রত করে।

এই গ্রন্থটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় ইতিহাস ও পর্যটন-ভাবনার সঙ্গে শিশুসাহিত্যের সংযোগ। সাধারণত শিশুদের জন্য লেখা সাহিত্যে দূরের কল্পলোক বেশি দেখা যায়; কিন্তু এই বইয়ে নিজের এলাকার সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে সামনে আনা হয়েছে। ফলে শিশুদের মধ্যে নিজের জেলা, নিজের মাটি ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

লেখকের দৃষ্টিতে শৈশব শুধু স্মৃতি নয়- এটি আনন্দ, আবিষ্কার ও মুক্তির জগৎ। তাই বইয়ের ছড়াগুলোতে শিশুর দৌড়ঝাঁপ, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া, গ্রামীণ জীবনের সরলতা এবং হারিয়ে যাওয়া দিনের টান পাওয়া যায়।

 

একই সাথে কবি তাঁর সশ্রদ্ধ নিবেদনে তিন সময়ের তিনজন গুণীজনকে উপস্থাপন করেছেন- অরুণ শীল, এরশাদ জাহান ও মাহমুদ আরিফ। যাঁরা তাদের অবস্থান থেকে ছড়া-জগতকে আলোকিত করছেন। যা আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে।

 

সাহিত্যিক মূল্যায়নের দিক থেকে বলা যায়, ‘মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়’ একটি আঞ্চলিক অনুভবকে সার্বজনীন আনন্দে রূপ দেওয়ার প্রয়াস। ছন্দের শৃঙ্খলা, বিষয় নির্বাচনের স্বাতন্ত্র্য এবং শেরপুরের প্রকৃতিকে সাহিত্যে তুলে ধরার কারণে গ্রন্থটি শিশু-কিশোর পাঠকদের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির অনুরাগীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

 

বইটি পাঠে আমি সত্যিই আনন্দিত। কবি তাঁর সৃষ্টিশীলতা এভাবেই অব্যাহত রাখুন এই কামনা।

 

আলোচক- আশরাফ আলী চারু

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

‘মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়’ – ছড়া ও কিশোর কবিতার এক মনোরম ভুবন

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

‘মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়’ – ছড়া ও কিশোর কবিতার এক মনোরম ভুবন

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

‘মন ছুটে যায় হারিয়াকোনায়’ – ছড়া ও কিশোর কবিতার এক মনোরম ভুবন

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×