| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

গ্রন্থ: গানের কবিতা | লেখক: আশরাফ আলী চারু

 

বাংলা সাহিত্যে কবিতা ও গানের সম্পর্ক চিরকালীন। কবিতা যেখানে অনুভূতির ভাষা, গান সেখানে সেই অনুভূতির সুরময় প্রকাশ। তবে সময়ের পরিবর্তনে অনেক কবিতা যেমন সুরের সম্ভাবনা হারিয়েছে, তেমনি অনেক গানও হারিয়েছে কাব্যিক গভীরতা। কবি ও গীতিকার আশরাফ আলী চারু তাঁর ১৯তম প্রকাশনা ‘গানের কবিতা’ গ্রন্থে এই দুই ধারার মধ্যে এক সৃজনশীল সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন।

‘গানের কবিতা’ শুধুমাত্র কবিতার সংকলন নয়; এটি এমন কিছু শব্দের সমাহার, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে সুরের স্পন্দন। কবি নিজস্ব ভাবনা ও ছন্দের পরীক্ষায় বইটিকে দিয়েছেন স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। তাঁর উদ্ভাবিত ‘চারু ছন্দ’ এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রচলিত ছন্দের গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে তিনি অনুভব, লয় ও উচ্চারণের স্বাভাবিক প্রবাহকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে কবিতাগুলো পাঠের সময় শব্দের ভেতর থেকেই এক ধরনের সুরের আবহ তৈরি হয়।

বিষয়বৈচিত্র্যের দিক থেকেও গ্রন্থটি সমৃদ্ধ। দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, আধ্যাত্মিকতা, প্রকৃতি ও জীবনদর্শন—বিভিন্ন অনুষঙ্গ তাঁর কবিতায় উঠে এসেছে। দেশাত্মবোধক কবিতাগুলোতে মাটি, মানুষ ও ইতিহাসের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ পাওয়া যায়। ‘বাঙালিয়ানা’ ভাবনার কবিতাগুলোতে তিনি ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐক্যের কথা বলেছেন।

গ্রন্থের ইসলামি গান, হামদ ও নাত অংশে কবির আধ্যাত্মিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। সেখানে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি রয়েছে বিনয়, আত্মসমর্পণ ও হৃদয়ের একান্ত আবেদন।

আশরাফ আলী চারুর কবিতায় প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। নদী, মাঠ, কাশফুল, মাটির গন্ধ—এসব শুধু বর্ণনার বিষয় নয়; এগুলো মানুষের স্মৃতি, অনুভব ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে গেছে। প্রকৃতির দৃশ্যের মধ্য দিয়ে তিনি জীবনের গভীর উপলব্ধিকে প্রকাশ করেছেন।

ভাষার ক্ষেত্রে কবির প্রধান শক্তি সরলতা। সহজ শব্দের ভেতর দিয়ে গভীর ভাব প্রকাশ তাঁর রচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দেশজ শব্দের ব্যবহার, অনুপ্রাস ও অন্ত্যমিলের পরিমিত প্রয়োগ তাঁর কবিতাকে শ্রুতিমধুর করেছে।

তবে ‘গানের কবিতা’ গ্রন্থের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সুরমুখী কাব্যভাবনা। কবিতা ও গানের মাঝামাঝি এক নতুন প্রকাশভঙ্গির অনুসন্ধান এখানে লক্ষ করা যায়। এই পরীক্ষামূলক প্রয়াস বাংলা গীতিকবিতার ধারায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

সবশেষে বলা যায়, ‘গানের কবিতা’ আশরাফ আলী চারুর সৃজনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা পাঠককে শুধু কবিতা পড়তে নয়, শব্দের ভেতরের সুর শুনতেও আহ্বান জানায়। বাংলা গীতিকবিতার ভাণ্ডারে বইটি নিজস্ব পরিচয় নিয়ে স্থান করে নেবে—এমন প্রত্যাশা করা যায়।

 

 

শেখ ফয়জুর রহমান

কবি, লেখক, সম্পাদক

—————————————-

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

আশরাফ আলী চারু’র ‘গানের কবিতা’ — ছন্দ ও সুরের যুগলবন্দিতে সৃষ্টি এক অনন্য নান্দনিকতা

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×