| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

শেরপুরে নানা আয়োজনে বড়দিন পালিত 

শেরপুরে নানা আয়োজনে বড়দিন পালিত 

শেরপুরে নানা আয়োজনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে । ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার বারোমারী সাধুলিওর ধর্মপল্লীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা নিয়ে আসা এই দিনটি পালনে জেলার ৫২টি গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যিশু খ্রিস্টের জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

 

দিনের শুরুতে ভোর থেকেই জেলা শহরের ৭টি গির্জাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার গির্জাগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বড়দিন উপলক্ষে প্রতিটি গির্জাকে বর্ণিল আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি এবং যিশুর জন্মের প্রতীকী গোশালা দিয়ে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। ঝিনাইগাতীর ঐতিহাসিক মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লী এবং নালিতাবাড়ীর বারমারী গির্জায় এ বছর সবচেয়ে বড় সমাগম দেখা গেছে।

 

মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীতে প্রার্থনা পরিচালনা করেন পালপুরোহিত ফাদার লরেন্স রিবেরু, (সিএসসি)। প্রার্থনা শেষে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বড়দিন মানেই হলো আনন্দ, ক্ষমা এবং পুনর্মিলনের উৎসব। যিশু খ্রিস্ট এই পৃথিবীতে এসেছিলেন মানুষের মুক্তি এবং শান্তির বার্তা নিয়ে। আজকের এই দিনে আমাদের প্রার্থনা হলো—পৃথিবী থেকে যেন যুদ্ধ-বিগ্রহ, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হয়। আমরা শেরপুরবাসী দীর্ঘকাল ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করে আসছি। আজকের এই উৎসব শুধু খ্রিষ্টানদের নয়, বরং এটি সকল ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের দেশ ও জাতিকে শান্তিতে রাখুন এবং প্রতিটি মানুষের জীবন আনন্দময় করে তুলুন।”

বড়দিনের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গির্জা প্রাঙ্গণগুলোতে মেলা এবং আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের পল্লিগুলোতে বড়দিনের আমেজ সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে। সন্ধ্যা থেকে প্রতিটি খ্রিষ্টান পরিবারে বিশেষ ভোজ ও নগর কীর্তনের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া শেরপুর শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বড়দিন উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের মতো মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি গির্জার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন গির্জা পরিদর্শন করে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত শেরপুরে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বড়দিনের এই উৎসব এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

শেরপুরে নানা আয়োজনে বড়দিন পালিত 

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

শেরপুরে নানা আয়োজনে বড়দিন পালিত 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

শেরপুরে নানা আয়োজনে বড়দিন পালিত 

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×