| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

মুমিনের জীবন হলো আল্লাহমুখী জীবন। তার ভালোবাসা, ঘৃণা, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি। ইসলামে শুধু নামাজ-রোজাই নয়; বরং মানুষের সঙ্গে আচরণ, সম্পর্ক ও অনুভূতিও ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রবন্ধে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও শত্রুতার গুরুত্ব, কুরআন-হাদিসের আলোকে তুলে ধরা হলো।

 

ঈমান পূর্ণতার মানদণ্ড

 

হযরত আবু উমামাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন— “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, আল্লাহর জন্য শত্রুতা করে, আল্লাহর জন্য দান করে এবং আল্লাহর জন্যই দান করা থেকে বিরত থাকে—সে তার ঈমানকে পূর্ণতা দান করল।” (সুনানে আবু দাউদ)

এই হাদিসে ঈমানের পূর্ণতার চারটি মৌলিক মানদণ্ড উল্লেখ করা হয়েছে—ভালোবাসা, শত্রুতা, দান ও দান থেকে বিরত থাকা; সবকিছুই হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

 

মুসলিম জীবনের মূল লক্ষ্য: আল্লাহর সন্তুষ্টি

 

একজন মুসলমানের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দি অর্জন করা। তাই তার প্রতিটি কথা, কাজ, আচরণ ও সিদ্ধান্তে এই চেতনা থাকা আবশ্যক—আল্লাহ কি এতে সন্তুষ্ট হবেন? যখন মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও সম্পর্ক আল্লাহর ইচ্ছার অধীন হয়ে যায়, তখনই তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করে।

 

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা: আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথ

 

হযরত মু‘আয (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: “যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর ভালোবাসে—তাদের জন্য আমার ভালোবাসা অবধারিত।” (মিশকাতুল মাসাবীহ)

আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা মানে মূলত আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব ও মর্যাদাকে সম্মান করা। এ ভালোবাসা কোনো স্বার্থ, আত্মীয়তা বা লেনদেনের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং একান্তই ঈমানি সম্পর্ক।

 

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল

 

হযরত আবু যর গিফারী (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন— “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো—আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা।” (মুসনাদে আহমাদ)

এই হাদিস প্রমাণ করে যে ঈমান শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যেও তার প্রতিফলন ঘটতে হবে।

 

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার অনন্য প্রতিদান

 

হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) বর্ণনা করেন—এক ব্যক্তি শুধু আল্লাহর জন্য তার এক মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিল। আল্লাহ তায়ালা একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে তাকে জানিয়ে দেন— “আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন, যেমন তুমি আল্লাহর জন্য তাকে ভালোবাসো।” (সহিহ মুসলিম)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়—আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এতটাই মূল্যবান যে, এর সংবাদ আল্লাহ নিজে ফেরেশতার মাধ্যমে পৌঁছে দেন।

 

দুনিয়াবি স্বার্থনির্ভর ভালোবাসার ভ্রান্তি

 

আজ সমাজে ভালোবাসা ও শত্রুতার মানদণ্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে দুনিয়াবি লাভ-লোকসান। কেউ উপকার করলে সে সম্মান পায়, আর উপকারে না এলে অবহেলিত হয়। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো—রক্তের সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহায়তা বা সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে ভালোবাসা ও ঘৃণা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।

 

যাকে আল্লাহ ভালোবাসেন, সৃষ্টিও তাকে ভালোবাসে

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন— “আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন জিবরাঈল (আ.)-কে বলেন: আমি তাকে ভালোবাসি, তুমিও তাকে ভালোবাসো… অতঃপর আসমান ও জমিনবাসীর হৃদয়ে তার ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়।” (সহিহ মুসলিম)

এই কারণেই আল্লাহওয়ালাদের প্রতি মানুষের হৃদয় আপনাআপনি আকৃষ্ট হয়।

 

কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান

 

হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— “কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: কোথায় তারা, যারা আমার মহিমার কারণে পরস্পর ভালোবাসত? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়ায় স্থান দেব।” (সহিহ মুসলিম)

 

ঈর্ষণীয় একদল মানুষ

 

হযরত উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

এমন কিছু বান্দা থাকবে, যারা নবী বা শহীদ নয়; কিন্তু তাদের মর্যাদা দেখে নবী ও শহীদরাও ঈর্ষা করবেন। তারা হলেন— “যারা কোনো আত্মীয়তা বা আর্থিক সম্পর্ক ছাড়াই, কেবল আল্লাহর জন্য একে অপরকে ভালোবাসত।” (সুনানে আবু দাউদ)

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই আয়াত তিলাওয়াত করেন—

“জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।” (সূরা ইউনুস: ৬২)

 

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা ও শত্রুতা—এটাই পূর্ণ ঈমানের আলামত। যদি আমাদের সম্পর্কের মানদণ্ড আল্লাহমুখী হয়, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা নিশ্চিত।

 

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য, পারস্পরিক ভালোবাসা ও শত্রুতা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

লেখক পরিচিতি:

মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

কবি ও শিক্ষক।

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

শত্রুতা ও ভালোবাসা হোক শুধু আল্লাহর জন্য : মুফতি নূরুল ইসলাম নাযীফ

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×