| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার, ছাত্রদের ওপর হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারসহ ৪ দফা দাবি আদায়ে আলটিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামিয়া ফয়েজুর রহমান মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা।

 

একই সঙ্গে তারা ছাত্রদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার, হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার এবং মাদ্রাসার একাডেমিক কার্যক্রমে নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন।

 

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর বড় মসজিদ ক্যাম্পাসে অবস্থিত জামিয়া ফয়েজুর রহমান মাদ্রাসার মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১ হাজারের চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

 

চার দফা দাবি সমূহঃ- ১. ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলমকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. মাদ্রাসা শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ৩. হামলার পর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নামে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৪. মাদ্রাসার প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে কোনো প্রকার সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযৌক্তিকভাবে হস্তক্ষেপ করে আসছেন। তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষক সমাজের সঙ্গে বারবার অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং মাদ্রাসা কমিটির সভাপতির পদে থেকে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

তাদের দাবি, সম্প্রতি মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা স্পর্শকাতর অভিযোগের তদন্তেও জেলা প্রশাসক প্রকাশ্যে ওই শিক্ষকের পক্ষ নিয়েছেন, যা শিক্ষক সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা হলেও রাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হামলা চালায়। হামলায় হিফজ বিভাগের প্রধান শিক্ষক হাফেজ শহীদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

ঘটনার পর সোমবার রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসন মাদ্রাসায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সদস্যরা রাতেই মাদ্রাসার পূর্ব গেটে মোতায়েন হন। তবে মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন।

 

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে ডিসিকে প্রত্যাহার করো, শিক্ষকের রক্ত বৃথা যেতে দেব না, মাদ্রাসার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে, এমন নানা স্লোগান দেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী নেতা আজিজুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি মুফতি ওমর ফারুক ও বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হক।

 

শিক্ষক নেতা মুফতি ওমর ফারুক বলেন, আমরা কারও শত্রু নই। আমরা শুধু ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে চাই। জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হয়েও পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তার এমন ভূমিকা মাদ্রাসার শান্ত পরিবেশ নষ্ট করেছে।

 

শিক্ষার্থী নেতা আজিজুল হক বলেন, আমাদের নিরীহ সহপাঠীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা হয়েছে। যারা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।

 

বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হক বলেন, মাদ্রাসা ইসলামি শিক্ষার কেন্দ্র। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদ। তাদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈরী আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

 

আন্দোলনরত শিক্ষক–শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের চার দফা দাবি পূরণ না হলে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

 

উল্লেখ্য, জামিয়া ফয়েজুর রহমান কওমি মাদ্রাসা ময়মনসিংহের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিকভাবে জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

ময়মনসিংহে জেলা প্রশাসক প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে মাদ্রাসা শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×