নওগাঁয় বই বিতরণে প্রাথমিকে সাফল্য, মাধ্যমিকেও ইতিবাচক অগ্রগতি
নওগাঁ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ নতুন পাঠ্যবই সরবরাহ নিশ্চিত হলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ পাঠ্যবই পৌঁছায়নি। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বছরের প্রথম দিনেই অনেক মাধ্যমিক শিক্ষার্থী বই না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি শিক্ষাবর্ষে নওগাঁ জেলার ১ হাজার ৩৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য মোট ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৯০৫টি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ছিল। এর বিপরীতে শতভাগ বই ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক পর্যায়ে বইয়ের মোট চাহিদা ছিল ২৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৬টি। এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ২০ লাখ ৬৮ হাজার ১৮০টি বই। সে হিসেবে মাধ্যমিকে প্রায় ৩০ শতাংশ পাঠ্যবই এখনও সরবরাহ হয়নি, যার বড় অংশই অষ্টম শ্রেণির বই।
গত, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নওগাঁ জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল সহ বেশ কিছু স্কুল গিয়ে দেখা যায়, বছরের প্রথম দিনে নতুন বই নিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। নতুন বই পেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল উচ্ছ্বাস ও আনন্দ। তবে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে চিত্র ছিল ভিন্ন। বহু শিক্ষার্থীকে বইয়ের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।
নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অরিত্র রায় বলেন, নতুন বছরের নতুন বই পাওয়ার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি খুবই আনন্দিত। বছরের প্রথম দিন থেকেই মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে সামনে আরও এগিয়ে যেতে চাই।
নওগাঁ জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, নতুন বই পেয়ে খুবই আনন্দ লাগছে। নতুন বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই হাতে পেয়েছি তাই খুব খুশি আমি। এখন মন দিয়ে পড়াশোনা করবো।
নওগাঁ জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুহা. সোলাইমান বলেন, বছরের প্রথম দিন থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছি। তৃতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সব বই পাওয়া গেছে। কেবল অষ্টম শ্রেণির বই এখনও আসেনি। আশা করছি খুব দ্রুতই তা পেয়ে যাব।
নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন বলেন, বেশিরভাগ বই আমরা পেয়েছি। কয়েকটি বিষয়ের বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। সেগুলোও শিগগিরই পাওয়া যাবে। এ বছর পাঠ্যবইয়ের গুণগত মান আগের চেয়ে ভালো।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বছর শুরুর আগেই আমরা চাহিদার শতভাগ পাঠ্যবই পেয়েছি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কোনো সংকট নেই। বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন জানান, এ বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বই উৎসবের আয়োজন নেই। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বই সংগ্রহ করছে। বর্তমানে মাধ্যমিকে প্রায় ৭০ শতাংশ বই এসেছে। প্রতিদিনই নতুন করে বই আসছে। যেসব বই এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত পৌঁছে যাবে।

| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


















