| ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পাম্পে থাকছেন না ‘ট্যাগ অফিসার’, তেল বিতরণে সেই বিশৃঙ্খলা

পাম্পে থাকছেন না ‘ট্যাগ অফিসার’, তেল বিতরণে সেই বিশৃঙ্খলা

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তা পর্যায়ে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে তেলের পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম মহানগরে ৬২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিলেও তাদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে না অধিকাংশ পাম্পে। ফলে পাম্পে চলছে আগের মতোই বিশৃঙ্খলা।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এর আগে মঙ্গল ও বুধবার নগরের নতুনব্রিজ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, অক্সিজেন, ডবলমুরিং, নাসিরাবাদ, গণি বেকারি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরেও দেখা যায় একই চিত্র।

কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কোনো পাম্পে হাজিরা দিয়ে চলে গেছেন, কোনো পাম্পে একেবারেই অনুপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশ পাম্পে বিক্রয় কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান তদারকি চোখে পড়েনি। ফলে আগের মতোই বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বিতরণ করা হচ্ছে তেল।

পরে কথা বলে জানা যায়, বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা চলে গেছেন। আবার কেউ অসুস্থতা, কেউ কাজের বাহানা দিয়ে তেল দেওয়া শুরু করে দিয়ে চলে গেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ রাখতে সরকার দেশের সব ফিলিং স্টেশনে গত ৩১ মার্চ ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেয়। চট্টগ্রাম মহানগরে এ সংখ্যা ৬২।

ট্যাগ অফিসারদেরও নির্দিষ্ট অফিস আছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তারা এটা পালন করছেন। প্রজ্ঞাপনে দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পে দিনে তিনবার সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় গিয়ে স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক। যতক্ষণ তেল দেবে ততক্ষণ তাদের উপস্থিত থাকতে হবে এমন কোনো কথা লেখা প্রজ্ঞাপনে নেই।-চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন

এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো পাম্পে জ্বালানি তেল সঠিক মাপে বিক্রি নিশ্চিত করা এবং টিপ-রড বা স্টিক ব্যবহার করে মজুত তদারকি করা। এছাড়া ফিলিং স্টেশনের দৈনিক রেকর্ড নেওয়া, তেল গ্রহণ ও বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

বিশৃঙ্খলার মধ্যে ট্যাগ অফিসার না পেয়ে ক্ষুব্ধ অনেক গ্রাহক

ট্যাগ অফিসারদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করতে হবে এবং দৈনিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তাদের দায়িত্বের মধ্যে আরও রয়েছে- ডিপো থেকে সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণ যাচাই, অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা রয়েছে কি না এবং জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রয় প্রক্রিয়া সঠিকভাবে চলছে কি না তা দেখা।

সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়, ডিপো থেকে জ্বালানি নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না হলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট এবং তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই কর্মকর্তারা মূলত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনায় প্রতিদিন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করেন।

মাঠপর্যায়ে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা মনিটরিং করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ৬২ জন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন হলেন- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন বিপণন কর্মকর্তা শফি মো. শাহরিয়ার খান, সহকারী ব্যবস্থাপক বদরুল হক, বিক্রয় কর্মকর্তা প্রগতি চাকমা, সহকারী ব্যবস্থাপক (আইটি) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, উপ-ব্যবস্থাপক (সেলস) মো. জসিম উদ্দিন, ব্যবস্থাপক (টিএস) তানভীর হাসান ডালাস, উপ-ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আলী বুলবুল, সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. শাহীন আনোয়ার, পিওপিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (হিসাব) আরিফ মাহমদ খান, পিওপিএলসি কর্মকর্তা (মানবসম্পদ) মো. সফিকুল ইসলাম, জেওসিএলের এজিএম (ডিবি) শেখ জাহিদ আহমেদ, এমপিএলের সিনিয়র অফিসার (টেকনিক্যাল) সুপ্লব কুমার প্রমুখ।

ট্যাগ অফিসারদের নির্দিষ্ট কোনো ডিউটি নেই। মূলত তেল গ্রহণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, তদারকি, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ, মজুত তদারকি, বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করতে যতক্ষণ সময় যায় ততক্ষণ। প্রত্যেকের দায়িত্বে একাধিক পাম্প আছে। আর তেল দেওয়া শুরু হয় মূলত বিপিসি যখন গাড়ি পাঠায় তখন থেকেই। নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই।

তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে ট্যাগ অফিসার না থাকায় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে দেখা দিচ্ছে প্রধান সমস্যা। কেউ পরে এসে আগে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ লাইনই মানছেন না। অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে ফিরছেন বাড়ি। ফলে লাইনে ধস্তাধস্তি ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল পাচ্ছেন না অনেকে

গত রোববার চট্টগ্রামের কিউ সি পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে গিয়ে দুই নারী বাইকার বাগবিতণ্ডায় জড়ান। আধাঘণ্টা ধরে তাদের বাগবিতণ্ডা চলতে থাকে, যা নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়। পরে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক নারী বাইকার তেলের জন্য ৪৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আরেকজন নারী বাইকার হুট করে এসে তেল নিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়। ও্ই সময়ও ট্যাগ অফিসার ছিলেন না।

ওই পাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. শাহীন আনোয়ারের সঙ্গে কথা বলতে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরের নাসিরাবাদ এলাকার মিমি সুপার মার্কেট সংলগ্ন ফয়েজ আহমেদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্যাগ অফিসার নেই। ওই স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার বদরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি তেল কার্যক্রম উদ্বোধন করে দিয়ে আসছি। রোজা রাখার কারণে একটু আগে চলে এসেছি।’

ওই পাম্পের একজন গ্রাহক জানান, শুরুতে তিনি তেলের সিরিয়ালে ছিলেন। ট্যাগ অফিসার আসেননি। তিনি দেখেননি।

পরে ওই ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মো. আব্দুল্লাহ নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, সরকার ট্যাগ অফিসার বসিয়েছে শুনেছি, কিন্তু এখানে এসে তো কাউকে দেখি না। তাহলে তদারকি হচ্ছে কীভাবে?

তেল নিতে এখনো এক থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। লাইনে দাঁড়িয়েও সবাই তেল পাচ্ছেন না। কারণ তেল শেষ হলেই পাম্প বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তেল না পেয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কথাকাটাকাটি হয়ে গেছে নিয়মিত ঘটনা।

মাঠপর্যায়ে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা মনিটরিং করার জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩১ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগরে ৬২ জন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্যাগ অফিসাররা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিলিং স্টেশনের দৈনিক রেকর্ড নেওয়া, তেল গ্রহণ ও বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করবেন। পাশাপাশি রেজিস্টারের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখবেন।-বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা

ফয়েজ আহমেদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের একজন পাম্পকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুরুতে ট্যাগ অফিসারদের কিছুটা উপস্থিতি দেখা গেলেও এখন তাদের দেখা মিলছে না। আজও তেল দেওয়ার সময় উনি আসেননি। পাম্প কর্তৃপক্ষই তাদের মতো করে চালাচ্ছে।

একই দিন পাঁচলাইশ খান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনেও ট্যাগ অফিসার অনুপস্থিত ছিলেন। ফিলিং স্টেশনটির ম্যানেজার মো. সালেহ জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় সময়ই ট্যাগ অফিসার থাকেন না। তেল দেওয়ার সময় মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে পারে।

ঢাকার দুই পেট্রোল পাম্পে পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে অ্যাপে তেল বিক্রিপাম্পের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ছুরিকাঘাত, আহত ৩অবৈধভাবে মজুত ২২ হাজার লিটার ভোজ্যতেল জব্দ, জরিমানা ৬০ হাজার

খান ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা কল্পলোক আবাসিকের প্রাইভেটকারচালক রাশেদুল ইসলাম বলেন, কোনো মনিটরিং না থাকলে অনিয়ম হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

তবে একটু ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় মীর ফিলিং স্টেশনে। সেখানকার ম্যানেজার মো. আসিফ বলেন, ট্যাগ অফিসার মাঝে মধ্যে আসেন। ট্যাগ অফিসার ছাড়াও সরকার এবং এনজিওর অন্য অফিসাররা তদারকিতে আসেন।

নতুনব্রিজের মীর ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার বিপণনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শফি মো. শাহরিয়ার খান বলেন, ‘আমার দায়িত্বে থাকা ফিলিং স্টেশনে আমি যাই। আমার দায়িত্বে দুটো, দুটোতেই আমি যাই।’

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ট্যাগ অফিসারদেরও নির্দিষ্ট অফিস আছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তারা এটা পালন করছেন। প্রজ্ঞাপনে দেওয়া দায়িত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পে দিনে তিনবার সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় গিয়ে স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক। যতক্ষণ তেল দেবে ততক্ষণ তাদের উপস্থিত থাকতে হবে এমন কোনো কথা প্রজ্ঞাপনে লেখা নেই।’

বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা মনিটরিং করার জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩১ মার্চ চট্টগ্রাম মহানগরে ৬২ জন অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। ট্যাগ অফিসাররা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফিলিং স্টেশনের দৈনিক রেকর্ড নেওয়া, তেল গ্রহণ ও বিক্রির রেকর্ড রেজিস্টার মনিটরিং, ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাণ তদারকি করবেন। পাশাপাশি রেজিস্টারের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখবেন।’

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ফিলিং স্টেশন ও ডিলাররা নগরবাসীর জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল, পিওপিএলসি ও বিএপিসির অধীনে পরিচালিত এসব স্টেশন শহরের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখে।

পদ্মা অয়েলের আওতায় নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে বাকলিয়ার রাজাখালী এলাকার মেসার্স মীর ফিলিং স্টেশন, ডাবলমুরিংয়ের স্ট্যান্ড রোডের মেসার্স এম কিউ চৌধুরী অ্যান্ড সন্স, ডাবলমুরিংয়ের আস্কারাবাদে মেসার্স গাজী ফিলিং স্টেশন, আন্দরকিল্লা ও কোতোয়ালির মেসার্স সিরাজুল হক অ্যান্ড সন্স, দক্ষিণ হালিশহরের এয়ারপোর্ট রোডে মেসার্স সৈকত ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার পদ্মা অয়েলের বিপণন কর্মকর্তা শাফি মো. শাহরিয়ার খান এবং বিক্রয় কর্মকর্তা প্রগতি চাকমা। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের অধীনে বায়েজিদ এলাকার মেসার্স এম আলম ফিলিং স্টেশন, ক্যান্টনমেন্ট গেট সংলগ্ন মেসার্স চৌধুরী ব্রাদার্স ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিস স্টেশন, পাঁচলাইশ থানার অক্সিজেন এলাকার মেসার্স জালালাবাদ ফিলিং স্টেশন, হাটহাজারীর বড়দীঘিরপাড়ের মেসার্স হাজি মো. ইসলাম ফিলিং স্টেশন এবং নন্দিরহাটের ধোপার দিঘীরপাড়ের মেসার্স জমজম ফিলিং স্টেশনের কার্যক্রম তদারকি করছেন সহকারী ব্যবস্থাপক (আইটি) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।

নাসিরাবাদ এলাকার মিমি সুপার মার্কেট সংলগ্ন ফয়েজ আহমেদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের দায়িত্ব পালন করছেন উপ-ব্যবস্থাপক (সেলস) মো. জসিম উদ্দিন।

পতেঙ্গার কাঠগড় এলাকায় অবস্থিত আম্বিয়া ফিলিং লিমিটেড এবং টোল রোডের চিটাগাং ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন ব্যবস্থাপক (টিএস) তানভীর হাসান ডালাস।

বাংলাবাজার, কোতোয়ালি এলাকায় মেসার্স আফছার আহমদ অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন ও দক্ষিণ হালিশহরের এয়ারপোর্ট রোডে অবস্থিত মেসার্স সৈকত ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের উপ-ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. আলী বুলবুল।

কোতোয়ালি এলাকার লাভ লেনে অবস্থিত মেসার্স অ্যাপোলো-১১ লিমিটেড ফিলিং স্টেশন ও রহমতগঞ্জে অবস্থিত মেসার্স কিউ সি ট্রেডিং ফিলিং স্টেশন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এখানকার দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ) মো. শাহীন আনোয়ার।

দক্ষিণ হালিশহরের মুনিরনগরে অবস্থিত মেসার্স আনোয়ারা-জাকারিয়া ফিলিং স্টেশন ও পতেঙ্গা এলাকায় মেসার্স এ আর সি ফিলিং স্টেশন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন পিওপিএলসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (হিসাব) আরিফ মাহমদ খান।

বন্দর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স স্ট্যান্ডার্ড অটো সার্ভিস, ৩ নম্বর জেটি এবং মেসার্স বশর হক অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশন, ৫ নম্বর জেটি গেট ও চট্টগ্রাম মহানগরের জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বশর হক অ্যান্ড কোং-এর দায়িত্বে আছেন পিওপিএলসি কর্মকর্তা (মানবসম্পদ) মো. সফিকুল ইসলাম।

বায়েজিদ এলাকায় ষোলশহরে অবস্থিত মেসার্স সেনা ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স এম আলম ফিলিং স্টেশন, টেক্সটাইল গেট এমপিএলের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার (আইটি) মো. মহিউদ্দিন আহমেদ দায়িত্বে রয়েছেন।

চাঁদগাঁওয়ের বহদ্দারহাটে অবস্থিত মেসার্স চাঁদগাঁও ফিলিং স্টেশন ও স্টেশনের পরিচালনায় আছেন শেখ জাহিদ আহমেদ, এজিএম (ডিবি), জেওসিএল।

খুলশী এলাকায় মেসার্স স্পিড ট্রেক (প্রা. লি.) এবং মেসার্স শাহ আমিন উল্লাহ পেট্রোল পাম্পের স্পিড ট্রেকের দায়িত্বে রয়েছেন এমপিএলের সিনিয়র অফিসার (টেকনিক্যাল) সুপ্লব কুমার।

রিপোর্টার: jagonews24.com

সুফি কবি শেখ ফয়জুর রহমান’র একগুচ্ছ কবিতা

পাম্পে থাকছেন না ‘ট্যাগ অফিসার’, তেল বিতরণে সেই বিশৃঙ্খলা

দিদার (دیدار)

 

মাশুকের সাদা আগুনে ভস্মীভূত

আমি এক কুরবানীর দুম্বা !

পুড়ে যাওয়ার যাতনা ভুলে

দিদারের পথ খুঁজি

 

অথচ আমার ক্লেদযুক্ত আত্মা

সম্মুখে দাঁড়ানোর জো নেই

তবুও আজন্মকালের আকাঙ্ক্ষা…

 

গোমরাহি

 

তুমি মৌচাক, তাই সবাই

মধু নিতে ছুটে এলো —

অথচ আমার ডালে রেখেছি তোমায় !

তুমি ভুলে গিয়ে আমার অস্তিত্ব-অনুরাগ

মিশে গেলে ভুল মজলিসে ।

 

এপিটাফ

 

নিবেদন রইলো —

জরাজীর্ণ এ গোরস্থানে

অবশিষ্ট দেহাবশেষ দেখে যেও

কৃপাদৃষ্টি উহ্য রেখেও নজর দিও

 

গোরের উপর লাল গোলাপের গাছ

পাঁচিলে খোদাই করা আধমরা কবিতা

সহজেই চিনে ফেলবে কটুরস অতীত !

 

বিয়োগী

 

হে বিরহ, তোমাকে সশ্রদ্ধ সালাম!

এমন গোপনে এসে ছুঁয়ে গেলে

সুখের ঘরের পর্দা!

হে দুঃখ, আমার আজন্ম সহোদর

ঘুরেফিরে ঘরে দেখি তুমি আপন ছায়া

 

আমি জল দেখে মরি

অথচ জলের প্রাণ আমার

আমি অনল দেখে পুড়ি

অথচ অনল পুষে হৃদয় ।

নালিতাবাড়ী সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ

পাম্পে থাকছেন না ‘ট্যাগ অফিসার’, তেল বিতরণে সেই বিশৃঙ্খলা

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাই পথে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষুধ জব্দ করেছে ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের রামচন্দ্রকুড়ার বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে গোাপন সংবাদের ভিত্তিতে ওইসব ওষুধ জব্দ করেন তারা। এসময় বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় চোরাকারবারীরা।

 

ময়মনসিংহের ৩৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি’র অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্ণেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ সাংবাদিকদের জানান, জব্দকৃত ওষুধের সিজার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান , ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সীমান্ত এলাকায় যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

পালানো সরকারের ফিরে আসার নজির নেই ; শেরপুরে মন্ত্রী মিল্লাত 

পাম্পে থাকছেন না ‘ট্যাগ অফিসার’, তেল বিতরণে সেই বিশৃঙ্খলা

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র নেতা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

এসময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানী তেল, গ্যাসসহ নানা সংকটের সময়ে একটি গনতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে। তাই এসব কিছুতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। কারন আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুতই এসবের সমাধান করবেন।

 

তিনি বলেন, ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা দেশে আসবে বলে বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়ানোর হচ্ছে।পৃথিবীতে এমন কোন উদাহরন নেই যে, গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফিরে আসতে পেরেছে।

 

মন্ত্রী মিল্লাত আরো বলেন, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের এমন পতন হয়েছে যে তাদের দলের সর্বোচ্চ নেতাসহ সকল তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীও পালিয়েছে। তারা আবার দেশে চলে আসবে, তা কোনদিনই সম্ভব নয়।

 

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় অন্যানোদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শেরপুর ২ আসনের (নকলা-নালিতাবাড়ী) সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, শেরপুর ৩ আসনের (শ্রীবরদি-ঝিনাইগাতী) সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার মো.একে এম জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।

 

সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ, পাহাড়ে সরকারি গাছ কর্তৃন ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অপরাধ প্রবণতা এবং জনগণের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

×